Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে হামলা করতে ফিলিস্তিনকে খরচ দেবে ইরান।

ইসরায়েলে হামলায় ফিলিস্তিনিদের অর্থ দেবে ইরান!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শান্তি পরিকল্পনার ওপর ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা। তাদের এই ক্ষোভের আগুনে ইরান ঘি ঢালছে বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে তেল আবিব বলছে, ইসরায়েলে হামলার জন্য ফিলিস্তিনিদের অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার জবাব দিতে এবং ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাতে ফিলিস্তিনিদের অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এ ঘোষণা দেন তিনি।
আলি খামেনি বলেন, ইসরায়েলে হামলার জন্য ফিলিস্তিনিদের সাধ্যমতো সহায়তা করবে ইরান। প্রয়োজনে তাদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বক্তৃতায় বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলো ইসরায়েলকে প্রতিরোধ করবে এবং প্রতিরোধ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর সাহায্যে এগিয়ে আসাকে ইরান তাদের কর্তব্য হিসেবেই মনে করে।
তিনি আরও বলেন, এ কারণে ইরানের পক্ষ থেকে তাদের সর্বোচ্চ সাহায্য করা হবে। আমরা ইসলামিক পদ্ধতির পক্ষে যে কোনো সাহায্য চালিয়ে যাব। ওই বক্তৃতায় ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দাও জানান খামেনি।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ফিলিস্তিনের গাজাভিত্তিক সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহকে অর্থ দিয়ে আসছে ইরান। এই সবগুলো সংগঠনই ইসরায়েলকে ধ্বংসের জন্য শপথ গ্রহণ করেছে।

Categories
বিশ্ব সংবাদ মধ্যপ্রাচ্য মুসলিম বিশ্ব

হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিদের পর্যবেক্ষণে রেখেছে ইরান।

হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলিদের পর্যবেক্ষণে রেখেছে ইরান

ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও তাদের মিত্ররা বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এসব ব্যক্তির ওপর হামলার চালানোর জন্যই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দারা।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, কয়েকদিন আগে ইহুদি গণহত্যা উপলক্ষে ইসরায়েলে যায় বৈশ্বিক অনেক নেতা। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তাও সেখানে যান। এসব কর্মকর্তার গতিপথ ইরানি গোয়েন্দারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দারা বলছে, হ্যাকারদের সহায়তার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে ইরান। বিশেষ করে এসব ব্যক্তি কোন হোটেলে যাচ্ছে, কীভাবে যাচ্ছে, ফোনে কার কার সঙ্গে কথা বলছে এ ধরনের সব তথ্য সংগ্রহ করছে তেহরানের গোয়েন্দারা।
ইসরায়েলি গোয়েন্দারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইরান। এ কারণেই তাদের ওপর নজর রাখছে তেহরান। সুযোগ পেলেই এসব কর্মকর্তার বড় ধরনের ক্ষতি করবে তারা।
ইরানের সাইবার কার্যক্রম সম্পর্কে গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআইয়ের প্রধান জন হলকুইস্ট বলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহে সমর্থ হয়েছে ইরানিরা। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কয়েকজনকে ট্র্যাকও করছে। যেসব ব্যক্তিকে ট্র্যাক করছে তাদের ওপর হামলা হতে পারে।
জন হলকুইস্ট আরও বলেন, ইরানি হ্যাকাররা দারুণভাবেই কাজটি করেছে। তাদের কাছে রয়েছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সুবিধাও। অবশ্য কিছু প্রযুক্তিগত দুর্বলতা থাকলেও কৌশলের মাধ্যমে সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে তারা।
প্রসঙ্গত, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানিকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাকে হত্যার অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে একই কায়দায় মার্কিন অথবা ইসরায়েলি কোনো কর্মকর্তার ওপর হামলা চালাতে পারে ইরান। এজন্যই মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছে তারা।

Categories
আন্তর্জাতিক

আমরা মুসলিমরা আল্লাহকে ভয় করি মৃত্যুকে নয়,মোদিকে ইমরান খান।

আমারা মুসলিমরা আল্লাহকে ভয় করি, মৃ’ত্যুকে নয়: মোদিকে ইমরান খান

কাশ্মীর সংহতি দিবস উপলক্ষে গতকাল আজাদ কাশ্মীরের মিরপুর শহরে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এত দেয়া বক্তৃতায় ইমরান খান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি বক্তব্য তুলে ধরে সে সম্পর্কে মোদিকে সতর্ক করেন।

নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি বলেছেন, ‘পাকিস্তানকে ধুলায় মিশিয়ে দিতে ভারতের সামরিক বাহিনীর ১০ দিনের বেশি সময় লাগবে না।’

মোদির এ বক্তব্যের জবাবে ইমরান খান বলেন, ‘আপনারা শুধু এটুকু মনে রাখুন যে, ২০ কোটি পাকিস্তানি নাগরিকের শেষ শিশুটি তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবে। কীভাবে যু’দ্ধ করতে হয় আমরা তা আপনাদেরকে দেখাবো।

আমাদের সামরিক বা’হিনী সুসংগঠিত ও যু’দ্ধ-অভিজ্ঞ। আমাদের জনগণ আল্লাহকে ভয় করে, মৃ’ত্যুকে নয়। যদি আপনারা ভুল ধারণা করে থাকেন যে, হিন্দুত্ববাদী ভোটারদের ওপর ভরসা করে পাকিস্তানের বি’রুদ্ধে যা খুশি তাই করবেন তাহলে সেটি হবে আপনাদের শেষ ভুল।’

এর আগে গত মাসে ভারতের সামরিক বা’হিনীর প্রধান বলেছিলেন, যদি ভারতের সংসদ নির্দেশ দেয় তাহলে তার সে’নারা আজাদ কাশ্মীর দখল করতে যাবে। ভারতীয় সামরিক বা’হিনীর প্রধানের এ বক্তব্যকে পাকিস্তানের সামরিক বা’হিনী নিতান্তই বাগাড়ম্বর বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।

Categories
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান মিরাজ,বিদ্ধস্ত।ভাটি বাংলা।

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ‘মিরাজ’ বিধ্বস্ত।পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘মিরাজ’ দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে উড্ডয়নের পর পাঞ্জাব প্রদেশের শরকোট শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয়। তবে বিমানটি দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক কোনো কারণ জানা যায়নি।

শুক্রবার পাক বিমানবাহিনীর বরাত দিয়ে ডন অনলাইন এ খবর জানায়।

দেশটির বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, বিমানটি থেকে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে এসেছেন। তবে বিধ্বস্ত এলাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বিমানটির বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিমানবাহিনীর সদর দফতর থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরআগে গত মাসে মিনওয়ালি শহরের কাছে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। এতে বিমানটিতে থাকা দুই পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার হারিস বিন খালিদ ও ফ্লাইং অফিসার ইবাদুর রহমান প্রাণ হারান।

Categories
আন্তর্জাতিক

কেন আপনি মুসলিম বোনদের ভয় পাচ্ছেন? মোদীকে ওয়াইসির প্রশ্ন।

মুসলিম বোনদের ভয় পাচ্ছেন কেন? মোদিকে ওয়াইসির প্রশ্ন

কেন আপনার ‘মুসলিম বোনদের’ ভয় পাচ্ছেন, নরেন্দ্র মোদিকে এমন প্রশ্ন করলেন ভারতের মজলিস ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

ভারতীয় গনমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ খবর পাওয়া গেছে।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে নিজেকে ‘মুসলিম নারীদের ভাই’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কাজেই নিজের বোনদের নিয়ে এখন এতো ভয় পাওয়াটা তার শোভা পায়না।

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধর্মের ভিত্তিতে কোনো আইন পাশ হয়েছে দাবি করে ওয়াইসি বলেন, ‘বিজেপি সরকার দেশে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাতে আমাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে যেতে হচ্ছে। এতে যদি আমরা হেরে যাই, তাহলে আমরা শেষ হয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা ১৯৩৩ সালের জার্মানির মতো। হিটলারের জার্মানির মতোই ভারতকে তৈরির চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার।’

এনপিআর ও এনআরসির মধ্যে কোনো যোগসাজশ নেই এবং দেশে কোনো এনআরসি হচ্ছে না, বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।

Categories
আন্তর্জাতিক

আমেরিকা,ইসরায়েল,আমিরাতের গোপন বৈঠক ফাঁস।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আমিরাতের গোপন বৈঠক ফাঁস!

এদিকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়োস অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বয় করে মোকাবেলা এবং আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণ না করার বিষয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আমিরাতের প্রিন্স জায়েদ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু, ইরানের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসে গোপন বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আমেরিকান নিউজের বরাত দিয়ে বুধবার তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি শাফাক এ খবর জানায়।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ওব্রায়েন, তার উপ ভিক্টোরিয়া কোটস এবং ইরানের জন্য ওয়াশিংটনের বিষেশ দূত ব্রায়ান হুক উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৈঠকে ইসরাইলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মীর বেন শব্বাত ও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবা।

অ্যাক্সিয়োসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রদূত ওতাইবা।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইসরাইল-ফিলিস্তিনি পরিকল্পনা ঘোষণা করছিলেন তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমিরাতে রাষ্ট্রদূত ওতাইবা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু তেহরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি গোপন জোট অগ্রসর করতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এতে বলা হয়, পোল্যান্ডের ওয়ারশায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি সম্মেলনে তিনি (নেতানিয়াহু) একই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

২০১৯ সালে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করা। ওই সম্মেলন শেষে ট্রাম্প প্রশাসন একটি ত্রিপাক্ষিক ফোরামও গঠন করে।

Categories
বিশ্ব সংবাদ

এক কোটি বিশ লাখ ইহুদি ঐক্যবদ্ধ কিছু একশ ত্রিশ কোটি মুসলিম বিভক্ত।ইমরান খান।

১ কোটি ২০ লাখ ইহুদি ঐক্যবদ্ধ আর ১৩০ কোটি মুসলমান বিভক্ত: ইমরান

বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ জরুরি দাবি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ‘প্রভাবশালী, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকায় মাত্র এক কোটি ২০ লাখ ইহুদিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্ব টু শব্দটি করছে না। অথচ ১৩০ কোটি মুসলমানকে বিশ্বের সর্বত্র নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।’

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক মালয়েশীয় থিংকট্যাংকদের একটি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভক্তির কারণেই মুসলমানরা সর্বত্র নির্যাতিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করে ইমরান খান বলেন, ‘লড়াই করতে মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হোক, সেটা আমরা চাই না, কিন্তু অন্যান্য সম্প্রদায়ের মতো তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করুক।’

পাকপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানসহ সর্বত্র মুসলমানদের বিপর্যয়ের কাহিনী। এর কারণ হচ্ছে- আমাদের কোনও ঐক্য নেই। আমাদের মধ্যে বিভক্তির কোনও শেষ নেই।’

এমনকি অধিকৃত কাশ্মিরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মুসলমান দেশগুলো বলেও জানান ইমরান খান।

দুইদিনের মালয়েশিয়া সফরের শেষ দিকে একটি কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন,‘ মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের জবাব হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোর ঐকবদ্ধ হওয়া। কাজেই মিয়ানমার ও কাশ্মিরে যা ঘটছে, যেখানে কেবল ধর্মের কারণে মুসলমানদের নির্যাতিত হতে হচ্ছে, এমন বিষয়গুলোতে তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সাম্প্রতিক সাংঘর্ষিক অবস্থা কেটে গেছে জানানা ইমরান খান।

Categories
বিশ্ব সংবাদ

কয়েকজন আরব নেতার বিশ্বঘাতকতায় কোন লাভ হবে না।ইমাম খামেনি।

কয়েকজন আরব নেতার বিশ্বাসঘাতকতায় কোনো লাভ হবে না: ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগেই কথিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’র মৃত্যু ঘটবে। বুধবার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার মানুষের এক সমাবেশে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কয়েকজন আরব নেতার বিশ্বাসঘাতকতায় কোনো লাভ হবে না তাদের।

ইরানের সর্বোচ্চ এ নেতা বলেন, ‘এই পরিকল্পনা মোকাবেলার পথ হচ্ছে ফিলিস্তিনি জাতি ও সংগঠনগুলোর সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিরোধ এবং মুসলিম বিশ্বের সমর্থন।’

মার্কিন গুণ্ডা ও দস্যুদের মাধ্যমে কথিত ‘ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি’ প্রকাশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘মার্কিনীরা ফিলিস্তিন-বিরোধী এই পরিকল্পনার একটি বড় নাম দিয়ে এখন এটা ভাবছে যে তাদের পরিকল্পনা সফল হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা বোকামিপূর্ণ ও শয়তানি কাজ করেছে এবং ঘটনার শুরুতেই তারা ক্ষতির শিকার হয়েছে। মার্কিন সরকার ইহুদিদের সঙ্গে এমন কিছু নিয়ে লেনদেন করছে যা তাদের নিজেদের নয়।’
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘নিজ জাতির কাছেও অপমানিত ও মূল্যহীন কয়েকজন বিশ্বাসঘাতক আরব নেতার হাততালিতে কোনো লাভ নেই। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সব সময় ফিলিস্তিন ইস্যুকে মানুষের মন থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে তাদের এই কাজের ফলে উল্টো ফিলিস্তিন ইস্যুটি আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে, বিশ্বের সর্বত্র ফিলিস্তিনিদের নাম ও অসহায়ত্ব এখন সবার মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।’

আয়াতুল্লাহ খামেনি আরও বলেন, ‘সাম্রাজ্যবাদীরা অস্ত্র ও অর্থের ওপর নির্ভর করে তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠনগুলো এর মোকাবেলা করবে এবং প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে। ইরান এসব সংগঠনের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতাকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করে। এ কারণে সম্ভাব্য সব উপায়ে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে এবং এটা ইরানের সরকার ব্যবস্থা ও জনগণেরই দাবি।’

ইরানের সর্বোচ্চ এ ধর্মীয় নেতা বলেন, ‘ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান ও সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিসহ সব ফিলিস্তিনির অংশগ্রহণে গণভোট আয়োজন করা এবং তাদের রায়ের ভিত্তিতেই সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’

Categories
ঐতিহাসিক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এক ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতক গুপ্তচর মাতা হরি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একজন বিশ্বাসঘাতক গুপ্তচর কিংবা পরিস্থিতির শিকার মাতা হারি….

গত শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত নারী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে একজন হলেন মাতা হারি। মূলত তিনি ছিলেন একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ফ্রান্সের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করেন। কিন্তু তিনি একজন ডাবল এজেন্ট অর্থাৎ একই সাথে দুইটি দেশের হয়ে কাজ করছেন, এমন অভিযোগে ১৯১৭ সালে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

বয়স চল্লিশের কাছাকাছি চলে আসার পর মাতা হারির অবস্থা একেবারেই শোচনীয় হয়ে ওঠে। কারণ যৌবন বয়সে তিনি পতিতাবৃত্তি ও নাচ ছিলো তার পেশা। তাই তার নাচ দেখতে মানুষ তেমন একটা আসে না। পতিতাবৃত্তিতেও তার খদ্দেরের পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। এমন অবস্থায় মাতা হারি একটি নির্ভরতা খুঁজতে শুরু করেন। আর প্রেমে পড়ে যান ২১ বছর বয়সী এক রাশিয়ান ক্যাপটেনের। নাম ভ্লাদিমির ডি ম্যাসলফ। সেটি ছিল ১৯১৬ সালের কথা। কোর্টশিপের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যান তারা। এরপর ম্যাসলফকে পাঠিয়ে দেয়া হয় যুদ্ধে। সেখানে একটি গুরুতর আঘাতের কারণে বাম চোখ অন্ধ হয়ে যায় তার।

এদিকে যেভাবেই হোক অর্থ উপার্জন করেন তরুণ স্বামীকে সাহায্য করতে মাতা হারি হয়ে ওঠেন বদ্ধপরিকর। তাই বিপদের তোয়াক্কা না করে ফরাসি সেনাবাহিনীর এক ক্যাপটেন, জর্জেস ল্যাডুর কাছ থেকে ফ্রান্সের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান তিনি। তার পরিকল্পনা ছিল, জার্মান হাই কম্যান্ডের অফিসারদেরকে নিজের রূপ-যৌবনের ফাঁদে ফেলে, তাদের কাছ থেকে গোপন সব তথ্য হাত করে নেবেন তিনি এবং সেগুলো হস্তান্তর করবেন ফ্রান্সের কাছে।

কিন্তু জার্মানদের জন্য ফাঁদ পাততে গিয়ে, সেই ফাঁদে নিজেই পড়ে যান মাতা হারি। এক জার্মান অফিসারের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে, তার কাছ থেকে কথার ছলে বিভিন্ন গোপন তথ্য আদায় করে নিয়ে উদ্যত হন তিনি। কিন্তু ঘটনাচক্রে, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে ফরাসি কর্তৃপক্ষের মনে সন্দেহ জাগে, তিনি হয়তো একজন ডাবল এজেন্ট, যিনি কিনা জার্মানির হয়েও কাজ করছেন।

ধারণা করা হয় যে, জার্মানরা বুঝে ফেলেছিল যে মাতা হারি ফ্রান্সের একজন গুপ্তচর। তাই তারা মাতা হারির মাধ্যমে ফরাসি কর্তৃপক্ষের কাছে এমন কিছু তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে পৌঁছে দেয়, যা থেকে ফরাসিদের মনে সন্দেহ জাগে। তবে আরেকটি জনপ্রিয় ধারণা হলো, মাতা হারি আসলেই ছিলেন একজন ডাবল এজেন্ট। অর্থের লোভে তিনি ফ্রান্স ও জার্মানি দুই পক্ষের হয়েই কাজ করার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন।

তবে মূল কারণ যা-ই হোক না কেন, বিশ্বাসঘাতকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৯১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্যারিসে ফরাসি কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। তাকে বন্দি অবস্থায় রাখা হয় সেইন্ট লাজারে কারাগারের একটি ইঁদুর-ভর্তি প্রকোষ্ঠে। বৃদ্ধ উকিল ছাড়া আর কারোই সুযোগ ছিল না তার সাথে দেখা করার। ওই বৃদ্ধ উকিল আবার ছিলেন মাতা হারির একজন প্রাক্তন প্রেমিক।

এমন একটা সময়ে মাতা হারির বিচারকার্য শুরু হয়, যখন মিত্রশক্তি জার্মান আক্রমণের কাছে বারবার পরাস্ত হচ্ছে। নিজেরা কিছুতেই পাল্টা আক্রমণ করতে পারছে না। তখন নিজেদের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে তারা বেছে নিয়েছিল গুপ্তচর সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের। আটককৃত সবাইকে তারা একে একে গুপ্তচর হিসেবে প্রমাণ করে ছাড়ছিল। মাতা হারির নিয়োগদাতা ক্যাপটেন জর্জেস ল্যাডুও তার বিরুদ্ধে এমন কিছু তথ্যপ্রমাণ দাঁড় করান, যাতে কোনোভাবেই তিনি নির্দোষ হিসেবে বের হয়ে আসতে না পারেন।

তাই যখন মাতা হারি আদালতে স্বীকার করে নেন যে এক জার্মান অফিসারের কাছ থেকে দেহের বিনিময়ে তিনি অর্থ গ্রহণ করেছিলেন, সরকারি উকিলরা সেটিকেই গুপ্তচরবৃত্তির বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ বলে চালিয়ে দেন। তাছাড়া যে অর্থের উল্লেখ তিনি করেছিলেন, আদালতে এ-ও প্রমাণ হয়ে যায় যে সেটি এসেছিল জার্মান গুপ্তচরগুরুদের কাছ থেকে। কিন্তু আদালতে এমন কাউকেই হাজির হতে দেওয়া হয়নি, যারা মাতা হারির পক্ষে জবানবন্দি দিতে পারে।

তাই মাত্র ৪৫ মিনিটের শুনানি শেষেই আদালত মাতা হারিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়ে দেয়। যখন এ আদেশ দেয়া হচ্ছিল, মাতা হারি চিৎকার করে বলছিলেন, “এটা অসম্ভব! এটা অসম্ভব!” কিন্তু তার আর্তচিৎকারে কেউ কর্ণপাত করেনি।

১৯১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ফায়ারিং স্কোয়াডের গুলিতে মৃত্যু হয় মাতা হারির। নীল রঙের কোট আর ত্রিকোণা টুপি পরে, একজন মন্ত্রী ও দুইজন সন্ন্যাসিনীর সাথে তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন মৃত্যুদন্ড কার্যকরের স্থানে। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি চোখ থেকে কাপড় সরিয়ে, সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। কয়েক মুহূর্ত পর ঐ সৈন্যদের মুহুর্মুহু গুলিতেই ভবলীলা সাঙ্গ হয় তার।

মাতা হারির মৃত্যুর পর এক শতকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তার মৃত্যু এক রহস্য হয়েই রয়ে গেছে। আদৌ তিনি ডাবল এজেন্ট ছিলেন, নাকি ছিলেন নিতান্তই পরিস্থিতির শিকার এক দুর্ভাগা, তা হয়তো কোনোদিনই জানা যাবে না।

Depense squad.

Categories
বিশ্ব সংবাদ Islam

উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব নিরব কেন?

উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে মুসলিম বিশ্ব নীরব কেন?

৯৬ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ১৪৪ কোটি মানুষের দেশ চীন। ২২টি প্রদেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশের নাম শিনজিয়াং। গোটা চীনে ৪০,০০০ মসজিদের মধ্যে ২৫,০০০ মসজিদই শিনজিয়াংয়ে।

আজ এ সব মসজিদ একে একে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে। খিলখিলিয়ে হাসছে মুসলিম বিদ্বেষী জঙ্গি বৌদ্ধ, ইহুদিগোষ্ঠী। কোথায় আরব, কোথায় ওআইসি, কোথায় মুসলিম ইউনিটি? কে দেবে জবাব!

শিনজিয়াং চীনের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত। আয়তন ১৬ লাখ সাড়ে ৪৬ হাজার বর্গকিলোমিটার। মানে প্রায় ১১টি বাংলাদেশের সমান। শিনজিয়াং আয়তনে চীনের প্রায় ছয় ভাগের একভাগ।

শিনজিয়াংয়ের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে আছে মুসলিম তাজিকিস্তান, কিরঘিজস্তান ও কাজাখস্তান, দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে আফগানিস্তান, আছে জম্মু-কাশ্মীর, আছে মঙ্গোলীয়া। প্রদেশটি স্বর্ণ, তেল ও গ্যাসসহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এটিই হচ্ছে কাল। গরিবের সুন্দরী বউ।

বন্যা-খড়া, দুর্যোগের প্রদেশ বা মরুভূমি কিংবা বরফাচ্ছাদিত প্রতিনিয়তই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জাতি যদি হতো শিনজিয়াংয়ের অধিবাসীরা তাহলে তাদের নির্মূলের পরিকল্পনা বা নির্যাতনের ভয়াবহতা আমাদের শুনতে হতো না হয়ত।

শিনজিয়াংয়ের হতভাগ্য নাগরিকদের আমরা উইঘুর মুসলমান হিসেবে জানি। তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং তুর্কি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত এই জাতি উইঘুর ভাষায় কথা বলেন, অনেকটা আরবি ভাষাই বলা যায়। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, শিনজিয়াংয়ে দেড় কোটি উইঘুর বসবাস করেন।

তারা ছাড়াও কাজাখস্তান,উজবেকিস্তান, কিরঘিজস্তান, তুরস্কে ও রাশিয়ায় প্রায় ৪ লাখের মতো উইঘুর মুসলিমের বসবাস। শিনজিয়াং ‘স্বায়ত্তশাসিত’ প্রদেশ। কিন্তু আজ চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের নিষ্ঠুরতম নিয়ন্ত্রণে শাসিত হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলেছে, চীন সরকার গোপনে বহু উইঘুর মুসলিম স্কলারের একপক্ষীয় বিচার করেছে। বিশিষ্ট উইঘুর ব্যক্তিত্বদের গত কয়েক বছরে আটক বা গুম/খুন হয়ে গেছেন শিনজিয়াং হতে। কয়েকজন হলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো. সালিহ হাজিম, অর্থনীতির বিজ্ঞানী ইলহাম তোকতি, নৃতাত্ত্বিক রাহাইল দাউদ, সঙ্গীতশিল্পী ও বেহালার স্টার আবদুর রহিম হায়াত, ফুটবলার এরফান হিজিমসহ অজানা অনেকে।

ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটস বিষয়ক কমিটি ২০১৮ সালের শেষে এক প্রতিবেদনে বলেছে,১০ লাখ উইঘুরকে চীনের ‘সন্ত্রাসবাদ সংশোধন’ সেন্টারগুলোতে আটক রাখা হয়েছে। আর ২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও দীক্ষাদান কেন্দ্রে’ থাকতে ও ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অর্থাৎ নারী-শিশু ছাড়া কেউ বাদ নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, যে সব লোকজনের ২৬টি বাইরের দেশে আত্মীয়-স্বজন আছেন তাদের এ সব ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে।

চীন মনে করেছিল বিশ্ববাসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সোনা-রুপার খনি সমৃদ্ধ উইঘুর মুসলিম জাতির নিজস্ব মাটি থেকে উৎখাত করে বা তাদের নিজেদের ‘হান’ জাতিতে রূপান্তর করে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে আরও নিখুঁত করবে। কিন্তু শত মাইল উপরের সেটেলাইট ক্যামেরাকে ফাঁকি দিতে পারেনি ।

যেখানে ১ দিন আগে ফসলের মাঠ বা খোলা ময়দান দেখা গেছে সেখানে দিনের ব্যবধানে বিশাল বিশাল স্কুলের মতো সেন্টার। কিসের কেন? বিবিসি সাংবাদিক সরেজমিন চলে যায় আসল খবর নিতে। চীনের পুলিশ বাধা দেয়। কোনোভাবেই ভেতরের খবর নিতে দেয় না।

মাইলের পর মাইল লম্বা লম্বা টাইট সিকিউরিটির ভেতর লাখ লাখ মুসলিম তরুণ যুবকদের কি মেরে-কেটে গলিয়ে ফেলা হচ্ছে, ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, ছেলে-মেয়ে সন্তান বাবা-মা, দাদা-নানা, দাদি-নানি- সব বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হচ্ছে? কি হচ্ছে? জানা ও যাচ্ছে না।

মুসলমানদের বিবিসি, সিএনএন, স্কাইনিউজের মতো কোনো মিডিয়া নেই। আল জাজিরা দেশে দেশে নিষেধ। মাহাথির, এরদোগান ও ইমরান খান মহোদয়গণ বসে একটি চ্যানেল খোলার খবর শোনালেন। ভালো খবর ছিল। এর পর আর কিছু জানা যায়নি।

বিবিসি সাংবাদিক বাঁধা পেরিয়ে নির্যাতন সেন্টারে সরেজমিন গেলে তাকে ‘ওমির’ নামে নির্যাতিত মুসলমানদের মধ্যে একজন বলেছেন, ‘তারা আমাদের ঘুমাতে দেয় না। কয়েক ঘণ্টা ধরে ঝুলিয়ে রেখে পেটানো হয়। কাঠ ও রবারের লাঠি দিয়ে পেটায়। তার দিয়ে বানানো হতো চাবুক। সে চাবুকের আঘাতে আঘাতে আমাদের শরীরের হার গোশত আলগা করা হচ্ছে। সুই শরীরে ফুটানো হতো। প্লাইয়ার দিয়ে তুলে নেয়া হতো নখ। আমার সামনে টেবিলের ওপর এ সব যন্ত্রপাতি রাখা হতো।একটার পর একটার ব্যবহার হয়। এ সময় অন্যরা যে ভয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করত সেটাও আমি শুনতে পেতাম।’

যুক্তরাষ্ট্রে চীনবিষয়ক কংগ্রেসের একটি কমিটির পক্ষ থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে শিনজিয়াংয়ে যে সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য।

কিছুদিন আগে মালয়েশিয়া, ইরান, কাতার ও তুরস্ক বসল। কই কুয়ালালামপুর ঘোষণায় উইঘুর নিয়ে জোড়ালো কিছু দেখা গেল না। বাংলাদেশ আর ইন্দোনেশিয়া মিলে প্রায় ৪২ কোটি মুসলমান। কিন্তু এ দুটি দরিদ্র দেশকে কেউ গুনতে চায় না।

উইঘুর বিষয়ে কারও কি কিছু করার নাই?

http://www.facebook.com/shasultansufi/

Design a site like this with WordPress.com
Get started