Categories
বিভাগবিহীন সারাদেশ

নেত্রকোনা মদনপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে একাধিক দোকানে জরিমানা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আজ নেত্রকোনা সদর মদনপুর বাজার ও মাজার এলাকায় কিছু দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন।এ সময় হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রহঃ) এর মাজার আঙ্গিনায় বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে কিছু মেয়াদ উত্তির্ন পণ্য ও বিনা অনুমোদিত পন্য সহ নানাবিধ কারনে বিভিন্ন মেয়াদ ও পরিমানে জরিমানা করেন উপস্থিত মহিলা মেজিস্ট্রেট সহ ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মাজার আঙ্গিনায় প্রতি দোকানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫১ দ্বারা নগদ ৫০০০ টাকা অনাদায়ে ১৫ দিন কারাদণ্ড নির্ধারন করেন মাননীয় ভ্রাম্যমাণ আদালত,

তাছাড়া বাজারের কয়েকটি হোটেল সহ অন্তত ৫/৭ টি দোকানে এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মাননীয় মেজিস্টেট উপস্থিতি ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জনসচেতনতা মুলক পরমর্শ দিয়ে বলেন এগুলো জনগণের স্বার্থে এবং বিনা অনুমোদিত পন্য সামগ্রি বর্জন করুন।

Categories
বিশ্ব সংবাদ মধ্যপ্রাচ্য Update
  • এবার মার্কিন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পেট্রিয়টভরাতে কিনবেন এরদোয়ান।

আমেরিকা থেকে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে চায় তুরষ্ক। তুর্কিশ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান গতকাল রয়টার্স কে জানিয়েছেন, তার দেশ চলতি মাসেই মার্কিন এয়ার ডিফেন্স প্যাট্রিয়ট কেনার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনা করবে। এসময় এরদোগান বলেন- ‘গত দুই সপ্তাহ আগেই আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনে কথা বলেছি প্যাট্রিয়ট কেনার ব্যাপারে এবং আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে তার সাথে আরো বিশদ আলোচনা হবে….

‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়বে’ এধরণের চিন্তাভাবনা থেকে তুরষ্ক এই সিদ্ধান্ত নিলো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এরদোগান বলেন- ‘আমরা আগেই বলেছিলাম রাশিয়া থেকে যত সংখ্যকই এস-৪০০ কেনা হোক না, আমেরিকা থেকে প্যাট্রয়ট এয়ার ডিফেন্স অবশ্যই কেনা হবে’, সুতরাং এখানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নই ওঠেনা। আমেরিকা কখনই তার অন্যতম মিত্র তুরষ্কের সাথে এমন আচরণ করবেনা ও করা যৌক্তিক নয় বলেও দাবি করেন এরদোগান। তিনি বলেছেন – আমরা সবসময় আমেরিকা থেকে প্রযুক্তি সহ প্যাট্রিয়ট নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা দেয়নি তাই বাধ্য হয়েই এস-৪০০ নিয়েছি। এখন যেহেতু প্যাট্রিয়ট নেওয়া হবে সেহেতু সেই সিদ্ধন্ত এবারও অটল থাকবে বলে জানান তিনি (যদিও তুরষ্কের কাছে প্যাট্রিয়ট অফারের ডেট অলরেডি এক্সপেয়ার হয়ে গেছে)…..

অন্যদিকে এরদোগান ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলি লঙ্ঘনের জন্য তুরস্কের মূলত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হাল্কব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে মার্কিন ট্রেজারিকে জরিমানা করা থেকে বিরত রাখতে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এরদোগান বলেছেন- মার্কিন-তুরষ্ক সম্পর্কে কখনই কেউ চিড় ধরাতে পারবেনা।

Categories
ইসলাম ঐতিহাসিক মধ্যপ্রাচ্য

হযরত ইমাম হুসাইন ও দুধের শিশু আলী আজগরের শহীদ হওয়ার ঘটনা ।

ইমাম হুসাইনের (আ) ও তাঁর দুধের শিশুর শাহাদাতের সেইসব অশ্রুসজল ঘটনা

সাইয়েদ ইবনে তাউস বলেন, যখন ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর পরিবারের যুবকদের ও বন্ধুদের লাশ দেখতে পেলেন তখন তিনি শহীদ হওয়ার জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলেন এবং উচ্চ কণ্ঠে বললেন, “কেউ কি আছে আল্লাহর রাসূলের পরিবারকে রক্ষা করবে? তওহীদবাদী কেউ কি আছে যে আল্লাহকে ভয় করবে আমাদের বিষয়ে? কোন সাহায্যকারী কি আছে যে আল্লাহর জন্য আমাদেরকে সাহায্য করতে আসবে? কেউ কি আছে যে আমাদের সাহায্যে দ্রুত আসবে আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কারের বিনিময়ে?”

দুধের শিশু আব্দুল্লাহ (আলী আল আসগার)-এর শাহাদাত

নারীদের কান্নার আওয়াজ উঁচু হলো এবং ইমাম তাঁবুর দরজায় এলেন এবং বোন যায়নাবকে (আ.) ডাকলেন, “আমাকে আমার দুধের শিশুটিকে দাও যেন বিদায় নিতে পারি।” এরপর তিনি তাকে দুহাতে নিলেন এবং উপুড় হলেন তার ঠোটে চুমু দেয়ার জন্য। হুরমালা বিন কাহিল আসাদি শিশুটির দিকে একটি তীর (তিন শাখা-বিশিষ্ট) ছুঁড়লো, যা তার গলা ভেদ করে তার মাথা আলাদা করে ফেললো (আল্লাহর রহমত ও বরকত তার উপর বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর অভিশাপ পড়ুক তার হত্যাকারীর উপর)। এরপর ইমাম তাঁর বোন সাইয়েদা যায়নাবকে (আ.)উচ্চ কণ্ঠে ডাকলেন শহীদ দুধের শিশুকে ফেরত নেয়ার জন্য। তিনি শিশুর রক্ত তাঁর হাতের তালুতে নিলেন এবং আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, “প্রত্যেক কষ্টই আমার জন্য সহজ যখন আল্লাহ তা দেখছেন।”

অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইমাম দুধের শিশু আলী আসগরের রক্ত জমা করলেন এবং যখন তার দুহাতের তালু রক্তে পূর্ণ হলো তখন তিনি তা জমিনে ছিটিয়ে দিলেন এবং বললেন: সর্বশক্তিমান আল্লাহ, যদি আপনি আকাশ থেকে সাহায্য বন্ধ করে দিয়ে থাকেন তাহলে আমাদের উপর তা দান করুন যা এর চেয়ে ভালো এবং এই অপরাধীদের উপর আমাদের হয়ে প্রতিশোধ নিন।’’

সিবতে ইবনে জওযি তার ‘তাযকিরাহ’-তে বর্ণনা করেছেন, যখন ইমাম হুসাইন দেখলেন তারা তাঁকে হত্যা করবেই, তিনি কুরআন আনলেন এবং তা খুলে মাথার উপর রাখলেন এবং উচ্চ কণ্ঠে বললেন, “আল কুরআন এবং আমার নানা, আল্লাহর রাসূল (সা.) হলেন আমার ও তোমাদের মধ্যে বিচারক। হে জনতা, কিভাবে তোমরা আমার রক্ত ঝরানোকে বৈধ মনে করছো? আমি কি তোমাদের নবীর নাতি নই? আমার নানা থেকে কি হাদীস পৌঁছায়নি তোমাদের কাছে আমার ও আমার ভাই সম্পর্কে যে আমরা জান্নাতের যুবকদের সর্দার? যদি সন্দেহ থাকে তাহলে জিজ্ঞেস করো জাবির (বিন আব্দুল্লাহ আনসারি)-কে, যায়েদ বিন আরকামকে এবং আবু সাঈদ খুদরীকে। জাফর তাইয়ার কি আমার চাচা নন? ….”

শিমার উত্তর দিল, “খুব শীঘ্রই তুমি জ্বলন্ত আগুনের (জাহান্নামের) দিকে দ্রুত যাবে।” (আউযুবিল্লাহ)। ইমাম বললেন, “আল্লাহু আকবার, আমার নানা আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি দেখেছেন একটি কুকুর তার গলা পূর্ণ করছে তার আহলুল বাইত (আ.) এর রক্ত দিয়ে এবং আমি বুঝতে পারছি সেটি তুমি ছাড়া কেউ নয়।”শিমার বললো, “আমি শুধু জিহ্বা দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করবো, যদি আমি বুঝি তুমি কী বলছো।” ইমাম হুসাইন (আ.) ফিরে দেখলেন তার শিশুপুত্র পিপাসায় কাঁদছে। তিনি তাকে কোলে নিলেন এবং বললেন, “হে জনতা, যদি তোমরা আমার প্রতি দয়া না দেখাও, কমপক্ষে এ বাচ্চার উপর দয়া করো।” এক ব্যক্তি একটি তীর ছুঁড়লো যা তার গলা বিচ্ছিন্ন করে ফেললো। ইমাম কেঁদে বললেন, “হে আল্লাহ, আপনি বিচারক হোন আমাদের মাঝে ও তাদের মাঝে, যারা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবং এর বদলে আমাদের হত্যা করেছে।” একটি কণ্ঠ আকাশ থেকে ভেসে এলো, “তাকে ছেড়ে দাও হে হুসাইন, কারণ এক সেবিকা তাকে শুশ্রূষা করার জন্য বেহেশতে অপেক্ষা করছে।” এরপর হাসীন বিন তামীম একটি তীর ছুঁড়ে তার ঠোটের দিকে এবং তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে।

ইমাম কাঁদলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে অভিযোগ করি, তারা যেভাবে আমার সাথে, আমার ভাই, আমার সন্তানদের এবং আমার পরিবারের সাথে আচরণ করেছে।”

ইবনে নিমা বলেন যে, তিনি বাচ্চাটিকে তুললেন এবং তার পরিবারের শহীদদের সাথে রাখলেন।

তেহরানে দুধের শিশুদের নিয়ে আন্তর্জাতিক আসগার দিবস পালনের একটি দৃশ্য (ফাইল ছবি)
মুহাম্মাদ বিন তালহা তার গ্রন্থ ‘মাতালিবুস সা’উল’-এ ‘ফুতূহ’ নামের গ্রন্থ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) এর একটি শিশু পুত্র ছিল, তার দিকে একটি তীর নিক্ষিপ্ত হয় যা তাকে হত্যা করে এবং এরপর ইমাম তার তরবারি দিয়ে একটি কবর খুঁড়েন তার জন্য এবং তার জন্য দোআ করে তাকে দাফন করেন।

শাহাদাতের লেখকরা এবং ইহতিজাজের লেখকও বলেন যে, ইমাম এরপর তার ঘোড়ায় চড়লেন এবং যুদ্ধের জন্য এগিয়ে গেলেন এই বলে, “এ জাতি অবিশ্বাস করেছে এবং তারা রাব্বুল আলামীনের পুরস্কার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, এ জাতি হত্যা করেছে আলীকে এবং তার সন্তান হাসানকে, যিনি ছিলেন উত্তম এবং সম্মানিত পিতা-মাতার সন্তান। তারা ঘৃণা ও বিদ্বেষে পূর্ণ ছিলো এবং তারা জনতাকে ডাক দিয়েছে এবং জমা হয়েছে হুসাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। অভিশাপ এ নীচ জাতির উপর যারা বিভিন্ন দলকে একত্র করেছে ‘দুই পবিত্র আশ্রয়-স্থানের’ লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। এভাবে মুশরিকদের বংশধর উবায়দুল্লাহর জন্য তারা যাত্রা করেছে এবং মুরতাদদের আনুগত্য করার জন্য অন্যদেরকে আহ্বান করেছে আল্লাহর বিরোধিতা করে আমার রক্ত ঝরানোর জন্য, এবং সা’আদের সন্তান আমাকে হত্যা করেছে আক্রমণাত্মকভাবে এক সেনাবাহিনীর সাহায্যে যা প্রবল প্লাবনের মত এবং এ সব আমার কোন অপরাধের প্রতিশোধের জন্য নয়, শুধু এ কারণে যে, আমার গর্ব হচ্ছে আমি দুই নক্ষত্রের (একজন), আলী যিনি ছিলেন নবীর পরে শ্রেষ্ঠ এবং (আমার নানা) নবী ছিলেন কুরাইশ পিতা- মাতার সন্তান, আমার বাবা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং আমি দুজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সন্তান, রূপার মত যা বেরিয়ে এসেছে স্বর্ণ থেকে, আমি হচ্ছি রূপা, দুই স্বর্ণালীর সন্তান, আর কারো নানা কি আমার নানার মত, অথবা তাদের পিতা আমার পিতার মত, এরপর আমি দুজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পুত্র সন্তান, আমার মা ফাতিমাতুয যাহরা এবং বাবা যিনি মুশরিকদের পিঠ ভেঙ্গে দিয়েছিলেন বদর ও হুনাইনের যুদ্ধে এবং যিনি শৈশবকাল থেকেই রবের ইবাদত করেছেন যখন কুরাইশরা ইবাদত করতো একসাথে দুই মূর্তি- লাত ও উযযার, তখন আমার বাবা নামায পড়েছেন দুই কিবলার দিকে ফিরে। আর আমার বাবা হলেন সূর্য এবং আমার মা চাঁদ, আর আমি এক নক্ষত্র, দুই চাঁদের সন্তান এবং তিনি (আলী) উহুদের দিনে এমন মোজেযা দেখিয়েছেন সেনাবাহিনীকে দুভাগ করে দেয়ার মাধ্যমে, যা হিংসা দুর করেছিলো এবং আহযাবে (এর যুদ্ধে) ও মক্কা বিজয়ে। যেদিন দুই সেনাবাহিনীতে একটি কথাই ছিলো – মৃত্যু এবং এ সবই আল্লাহর রাস্তায় করা হয়েছিলো, কিন্তু কিভাবে এই নীচ জাতি এ দুই সন্তানের সাথে আচরণ করেছে – যারা সৎকর্মশীল নবী ও আলীর সন্তান, দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে যুদ্ধের দিনে যারা লাল গোলাপের মত।”

এরপর তিনি সেনাবাহিনীর দিকে ফিরে দাঁড়ালেন তাঁর তরবারি খাপমুক্ত করে, জীবনকে পরিত্যাগ করে এবং হৃদয়ে মৃত্যুর দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে। তিনি বলছিলেন, “আমি আলীর সন্তান, যিনি ছিলেন পবিত্র ও হাশিমের বংশধর এবং এ মর্যাদা আমার জন্য যথেষ্ট যখন আমি গর্ব করি, আমার নানা আল্লাহর রাসূল সবার চেয়ে সম্মানিত। আমরা সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর বাতি এবং আমার মা ফাতিমা যাহরা (আ.), যিনি আহমাদ (সা.) এর কন্যা এবং আমার চাচা (হযরত জাফর) যিনি দুপাখার অধিকারী বলে পরিচিত এবং আমাদের মাঝে আছে আল্লাহর কিতাব এবং তা সত্যসহ নাযিল হয়েছে এবং আমাদের মধ্যেই আছে বৈধতা এবং কল্যাণপূর্ণ ওহী এবং আমরা হলাম সব মানুষের মধ্যে আল্লাহর আমানত এবং আমরা গোপনে ও প্রকাশ্যে ঘোষণা করি যে কাউসারের উপর আমরা কর্তৃত্ব রাখি এবং আমরা আমাদের অনুসারীদের পান করাবো নবীর পেয়ালা দিয়ে, যা অস্বীকার করা যায় না এবং আমাদের অনুসারীরা হলো অনুসারীদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং যারা আমাদের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করে কিয়ামতের দিন তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।”

মুহাম্মাদ বিন আবু তালিব বলেন আবু আলী সালামি তার ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন যে, এ শোকগাথাটি ইমাম হুসাইন (আ.) এর নিজের সৃষ্টি এবং এর মত কোন শোকগাথা নেই:

“যদিও এ পৃথিবীকে প্রীতিকর মনে করা হয়, আল্লাহর পুরস্কার হচ্ছে সুমহান ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং যদি দেহকে তৈরি করা হয়ে থাকে মৃত্যুর জন্য তাহলে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং যদি রিযক বিতরণ করা হয় ও নিশ্চয়তা থাকে তাহলে মানুষের উচিত না তা অর্জনের জন্য কঠিন চেষ্টা করা এবং যদি এ সম্পদ জমা করার ফলাফল হয় তা পেছনে ফেলে যাওয়া, তাহলে কেন মানুষ লোভী হবে?” এরপর তিনি সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে আহ্বান করলেন এবং যে-ই কাছে এলো তৎক্ষণাৎ নিহত হলো এবং লাশের স্তূপ জমা হলো। এরপর তিনি সেনাবাহিনীর ডান অংশকে আক্রমণ করলেন এবং বললেন, “অপমান হওয়া মৃত্যুর চাইতে উত্তম এবং অপমান জাহান্নামের আগুনে প্রবেশের চাইতে উত্তম।”

এরপর তিনি সেনাবাহিনীর বাম অংশকে আক্রমণ করলেন এবং বললেন, “আমি হুসাইন, আলীর সন্তান, আমি শপথ করেছি যে শত্রুদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবো না এবং আমার বাবার পরিবারকে রক্ষা করবো, যতক্ষণ না আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর ধর্মের উপর নিহত হই।”কিছু বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর শপথ, আমি তাঁর মত কোন বীর দেখিনি, যে তার সন্তান, পরিবার ও বন্ধুদের হারিয়ে ভেঙ্গে গেছে। যোদ্ধারা তার ওপরে প্রথমে আক্রমণ চালালো এবং তিনিও তাদের আক্রমণের সমান জবাব দিলেন এবং তিনি তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলেন যেভাবে নেকড়ে ভেড়ার সারিতে ঢুকে পড়ে এবং তাদের তিনি বিতাড়িত করলেন এবং পঙ্গপালের মত ছত্রভঙ্গ করে দিলেন। তিনি অস্ত্রে সুসজ্জিত ত্রিশ হাজার সৈন্যের বাহিনীকে আক্রমণ করলেন এবং তারা তার সামনে পঙ্গপালের মত ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলো। এরপর তিনি তার জায়গায় ফেরত এলেন এবং বললেন, “কোন ক্ষমতা নেই ও কোন শক্তি নেই শুধু আল্লাহর কাছে ছাড়া যিনি উচ্চ ও মহান।”‘ইসবাত আল ওয়াসিয়াহ’তে বর্ণিত আছে যে তিনি নিজ হাতে আঠারো শত যোদ্ধাকে হত্যা করেন।

‘বিহারুল আনওয়ার’-এ আছে যে, ইবনে শাহর আশোব এবং মুহাম্মাদ বিন আবি তালিব বলেছেন যে, তিনি অবিরাম আক্রমণ করলেন যতক্ষণ না তিনি উনিশশত পঞ্চাশ ব্যক্তিকে হত্যা করলেন, আহতদের সংখ্যা ছাড়াই। উমর বিন সা’আদ সেনাবাহিনীকে উচ্চ কণ্ঠে বললো, “আক্ষেপ তোমাদের জন্য, তোমরা জানো তোমরা কার সাথে যুদ্ধ করছো? … সে হচ্ছে আরবদের ঘাতকের (আলীর) সন্তান। তাকে সব দিক থেকে আক্রমণ করো।” চার হাজার তীরন্দাজ তাকে ঘেরাও করে ফেললো এবং তাঁবুর দিকে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলো।

মুহাম্মাদ বিন আবি তালিব, ইবনে শাহর আশোব এবং সাইয়েদ ইবনে তাউস বলেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) তখন বললেন, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর হে আবু সুফিয়ানের পরিবারের অনুসারীরা, যদি তোমরা অধার্মিক লোক হও এবং কিয়ামতের দিনটিকে ভয় না পাও তাহলে কমপক্ষে স্বাধীন চিন্তার লোক হও এবং বুঝতে চেষ্টা করো যদি তোমরা আরবদের বংশধর হও।”

শিমার বললো, “হে ফাতিমার সন্তান, তুমি কী বুঝাতে চাও?”ইমাম বললেন, “আমি বলছি যে আমরা পরস্পর যুদ্ধ করবো কিন্তু নারীরা তো কোন দোষ করে নি। আমার পরিবারের তাঁবু লুট করা থেকে বিরত থাকো যতক্ষণ আমি বেঁচে আছি।”শিমার বললো, “নিশ্চয়ই তোমার অধিকার আছে।” তখন সে উচ্চ কণ্ঠে ডাকলো, “তাঁবুগুলো থেকে ফেরত আসো এবং তাকে তোমাদের লক্ষ্যে পরিণত করো এবং সে দয়ালু সমকক্ষ।” তখন পুরো সেনাবাহিনী তার দিকে ফিরলো এবং ইমাম হুসাইন (আ.) পানি পান করতে চাইলেন। যখনই তিনি ফোরাত নদীর দিকে যেতে চাইলেন, সেনাবাহিনী তাকে আক্রমণ করলো এবং নদী থেকে ফিরিয়ে দিলো।

ইবনে শাহর আশোব বলেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) আক্রমণ করেন আ’ওয়ার সালামি ও আমর বিন হাজ্জাজ যুবাইদিকে যারা চার হাজার সৈন্যসহ ফোরাত নদীর তীর পাহারা দেয়ার জন্য নিয়োজিত ছিলো। তখন তিনি তার ঘোড়াকে নদীতে প্রবেশ করালেন এবং যখন ঘোড়া তার মুখ পানিতে রাখলো পান করার জন্য ইমাম বললেন, “হে আমার ঘোড়া, তুমি তৃষ্ণার্ত এবং আমিও এবং যতক্ষণ না তুমি পান করো আমি আমার তৃষ্ণা মিটাবো না।” যখন ঘোড়াটি ইমামের এ কথাগুলি শুনলো সে তার মাথা তুলে ফেললো এবং পানি খেলো না, যেন সে বুঝতে পেরেছে ইমাম কী বলেছেন। ইমাম বললেন, “আমি পান করবো এবং তুমিও পান করো।” তিনি তার হাত লম্বা করে দিলেন এবং হাতের তালু পানিতে পূর্ণ করলেন। তখন সেনাবাহিনীর এক ব্যক্তি চিৎকার করে বললো, “হে আবা আব্দিল্লাহ, তুমি শান্তিতে পানি পান করছো অথচ তোমার তাঁবুগুলো লুট করা হচ্ছে?” তা শুনে ইমাম পানি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং আক্রমণ করলেন। তিনি শত্রুবাহিনীকে দুভাগ করে এগিয়ে দেখতে পেলেন তার তাঁবুগুলি নিরাপদ আছে।

আল্লামা মাজলিসি তার ‘জালাউল উয়ুন’-এ বলেছেন যে, আবারও তিনি তার পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিলেন এবং তাদেরকে সহনশীল হওয়ার আদেশ করলেন এবং তাদেরকে পুরস্কার ও প্রতিদানের শপথ করলেন, এরপর বললেন, “তোমাদের চাদরগুলো পরো, পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও এবং জেনে রাখো আল্লাহ তোমাদের সাহায্য ও নিরাপত্তা দানকারী এবং তোমাদেরকে শত্রুদের খারাপ আচরণ থেকে মুক্তি দিবেন এবং তোমাদের উত্তম পরিসমাপ্তি ঘটাবেন। তার ক্রোধ তোমাদের শত্রুদের ঢেকে ফেলবে বিভিন্ন দুর্যোগে এবং তিনি তোমাদের উপর বিশেষ বরকত ও আশ্চর্যজনক উপহার দিবেন এ পরীক্ষার পরে। অভিযোগ করো না, এমন কিছু বলো না যা তোমাদের মর্যাদা কমিয়ে দেয়।”

‘বিহারুল আনওয়ার’-এ আছে যে আবুল ফারাজ বলেছেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) নদীর দিকে গেলেন এবং শিমার বললো, “তুমি নদীর দিকে যাবে না, বরং তুমি আগুনের দিকে যাবে।” (আউযুবিল্লাহ)। এক ব্যক্তি উচ্চ কণ্ঠে বললো, “ও হুসাইন, তুমি কি দেখছো না মাছের পেটের মত ফোরাত নড়াচড়া করছে? আল্লাহর শপথ, তুমি অবশ্যই এর স্বাদ পাবে না যতক্ষণ না তৃষ্ণায় মারা যাও।” ইমাম বললেন, “ইয়া রব, তাকে তৃষ্ণার কারণে মৃত্যু দাও।” বর্ণনাকারী বলে যে (ওই) ব্যক্তি বলতো, “আমাকে পান করার জন্য পানি দাও।” তাকে পানি দিলে সে তা থেকে পান করতো এবং বমি করে ফেলতো। আবারও সে বলতো, “আমাকে পান করার জন্য পানি দাও কারণ তৃষ্ণা আমাকে মেরে ফেলছে।” এ রকম চলতে থাকলো যতক্ষণ না সে মৃত্যুমুখে পতিত হলো (আল্লাহর অভিশাপ তার উপর)।

আবু হাতূফ নামে এক ব্যক্তি একটি তীর ছুঁড়ে ইমাম হুসাইনের (আ.)দিকে যা তার কপালে বিদ্ধ হয়। তিনি তা টেনে বের করলেন এবং রক্ত তাঁর চেহারা ও দাড়ি ভিজিয়ে দিলো। তখন তিনি বললেন, “হে আমার রব, আপনি কি দেখছেন এ খারাপ লোকদের হাতে আমাকে কী সহ্য করতে হচ্ছে? ইয়া রব, তাদের সংখ্যা কমিয়ে দিন এবং তাদের শেষটিকেও হত্যা করুন এবং তাদের একটিকেও পৃথিবীর উপর রাখবেন না এবং তাদের ক্ষমা করবেন না।”

এরপর তিনি তাদের আক্রমণ করলেন এক ভয়ঙ্কর সিংহের মত এবং কেউ ছিলো না যে তাঁর কাছে পৌঁছতে পারে, তিনি তাদের পেট কেটে হত্যা করলেন। তারা সব দিক থেকে তাকে তীর ছুঁড়তে লাগলো যেগুলোর আঘাত তিনি বুকে ও ঘাড়ে নিলেন এবং বললেন, “কত খারাপ আচরণই না তোমরা করলে মুহাম্মাদ (সা.) এর বংশধরদের সাথে তাঁর মৃত্যুর পর। আমাকে হত্যা করার পর তোমরা আল্লাহর কোন বান্দাহকে হত্যা করতে আর ভয় পাবে না এবং আমাকে হত্যা করা তোমাদের কাছে তাদের হত্যাকে সহজ করে দিবে। আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে তিনি তোমাদের হাতে আমাকে অপমানের বদলে আমাকে শাহাদাত দান করবেন এবং এরপর আমার প্রতিশোধ নিবেন এমন মাধ্যমে যে তোমরা তা কখনো চিন্তাও করতে পারবেনা।”

এ কথাগুলো শুনে হাসীন বিন মালিক সাকনি বল লো, “হে ফাতিমার সন্তান, কিভাবে আল্লাহ আমাদের উপর তোমার প্রতিশোধ নিবেন?” ইমাম বললেন, “তিনি তোমাদের যুদ্ধে ঢেকে ফেলবেন এবং তোমাদের রক্ত ঝরাবেন, এরপর এক ভয়ানক শাস্তি তোমাদের উপর আসবে।” এরপর তিনি যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না অনেক আঘাতে জর্জরিত হলেন। ইবনে শাহর আশোব ও সাইয়েদ ইবনে তাউস বলেন আঘাতের সংখ্যা ছিলো বাহাত্তর।

ইবনে শহর আশোব আবু মাখনাফ থেকে তিনি ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) থেকে বর্ণনা করেন যে, “ইমাম হুসাইন (আ.) এর শরীরে বর্শার তেত্রিশটি আঘাত ও তরবারির চৌত্রিশটি আঘাত ছিলো।”ইমাম মুহাম্মাদ আল বাক্বির (আ.) বলেন যে, “ইমাম হুসাইন (আ.) বর্শা, তরবারি ও তিনশ বিশটির বেশী তীর থেকে আঘাত পেয়েছিলেন।”তীর তার বর্ম ভেদ করে সজারুর কাটার মত এবং বর্ণনা করা হয় যে তার সব আঘাত ছিলো দেহের সামনের দিকে।

বর্ণিত আছে যে (অতিরিক্ত) যুদ্ধ ইমাম হুসাইন (আ.) কে ক্লান্ত করে ফেলে এবং তিনি বিশ্রাম নেয়ার জন্য খানিক ক্ষণের জন্য থামেন। সে সময় একটি পাথর তার কপালে নিক্ষিপ্ত হয় এবং তিনি তার জামার সামনের দিক উঁচু করলেন তা (রক্ত) মোছার জন্য। তখন বিষ মাখানো তিন মাথার একটি তীর তার বুক ভেদ করলো। কিছু বর্ণনায় আছে যে, তা তার হৃৎপিণ্ড ভেদ করলো এবং এ সময় তিনি বললেন, “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর সাহায্যে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিশ্বাসের ওপরে।” এরপর তিনি তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুললেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ, তুমি জানো তারা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে হত্যা করতে যে ছাড়া পৃথিবীতে নবীর আর কোন সন্তান নেই।” এরপর তিনি তীরটি টেনে বের করলেন তার (বুক অথবা) পিঠ থেকে এবং রক্ত প্রবাহিত হলো ছোট্ট একটি নদীর মত। তিনি তা দিয়ে তার হাতের তালু ভরে ফেললেন এবং তা আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং একটি ফোটাও তা থেকে মাটিতে ফিরে এলো না। এরপর তিনি তার অন্য হাতের তালু রক্তে ভরে ফেললেন এবং তা মাথায় ও দাড়িতে মাখলেন এবং বললেন, “আমি চাই আমার নানা আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সাথে আমার রক্তে রঙ্গিন হয়ে মিলিত হতে এবং আমি বলবো, হে রাসূলুল্লাহ, অমুক অমুক ব্যক্তি আমাকে হত্যা করেছে।”

শেইখ মুফীদ ইমাম হুসাইন (আ.) এর ঘোড়ায় চড়া ও ফোরাত নদীর তীরের দিকে যাওয়া এবং তার ভাই আব্বাস (আ.) এর শাহাদাত বর্ণনা করার পর বলেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) ফোরাত থেকে ফিরে তার তাঁবুর দিকে আসেন। শিমার বিন যিলজাওশান, তার কিছু সহযোগী নিয়ে তার কাছে এলো এবং তাকে সব দিক থেকে ঘেরাও করে ফেললো। মালিক বিন বিশর কিনদি নামে এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে ইমাম হুসাইনকে (আ.)গালাগালি করতে লাগলো এবং তার তরবারি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলো। তা তার রাতে পরর টুপি কেটে মাথায় পৌঁছে গেলো এবং রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করলো এবং টুপিটি ভরে ফেললো। ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “তুমি এ হাত দিয়ে আর কখনো খাবে না ও পান করবে না এবং তুমি উঠে দাঁড়াবে (কিয়ামতের দিন) অত্যাচারীদের সাথে।” তিনি মাথা থেকে টুপিটি সরালেন এবং একটি রুমাল চেয়ে তা দিয়ে মাথা বাঁধলেন। এরপর তিনি আরেকটি টুপি পরলেন এবং তার উপর একটি পাগড়ী বাঁধলেন।

তাবারি বলেন যে, আবু মাখনাফ বর্ণনা করেছে, শিমার দশ জন কুফী পদাতিক সৈন্যকে একত্র করলো এবং ইমাম হুসাইন (আ.) এর নারীদের তাঁবুগুলোর দিকে অগ্রসর হলো এবং ইমাম ও তাঁর পরিবারের মাঝখানে অবস্থান গ্রহণ করলো। ইমাম হুসাইন (আ.) বললেন, “দুর্ভোগ তোমাদের উপর, যদি তোমরা ধর্মহীন মানুষ হয়ে থাকো এবং ফেরত যাওয়ার দিনকে (কিয়ামতকে) ভয় না পাও, কমপক্ষে তোমাদের পৃথিবীতে স্বাধীন চিন্তা-সম্পন্ন এবং মর্যাদাবান লোক হও। তোমরা আমার পরিবারের কাছ থেকে অসভ্য ও নির্বোধ লোকদের দূরে রাখো।” শিমার বললো, “হে ফাতিমার সন্তান, নিশ্চয়ই তোমার অধিকার আছে।” এরপর সে তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.) এর দিকে অগ্রসর হলো। তাদের মাঝে ছিলো আবুল জুনুব আব্দুর রহমান জু’ফি, ক্বাশ’আম বিন আমর বিন ইয়াযীদ জু’ফি, সালেহ বিন ওয়াহাব ইয়াযবী, সিনান বিন আনাস নাখাই এবং খাত্তলি বিন ইয়াযীদ আসবাহি। শিমার তাদের উস্কানি দিলো ইমাম হুসাইন (আ.) কে হত্যা করার জন্য।

বর্ণনায় আছে যে শিমার , সঙ্গে দশ জন পদাতিক সৈন্য নিয়ে, ইমাম হুসাইন (আ.) এর দিকে ফিরলো এবং তিনি তাদেরকে আক্রমণ করলেন ও ছত্রভঙ্গ করে দিলেন। তখন তারা তাকে আরও কঠিনভাবে ঘেরাও করলো। সে মুহূর্তে একটি শিশু ইমাম হুসাইন (আ.) এর দিকে ছুটে এলো ইমামের পরিবারের তাঁবু থেকে। ইমাম উচ্চ কণ্ঠে তার বোন সাইয়েদা যায়নাব (আ.) কে ডাক দিলেন, “এর যত্ন নাও ।” শিশুটি শুনলো না এবং দৌড় দিলো ইমামের কাছে পৌঁছা পর্যন্ত এবং তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। শেইখ মুফীদ তাকে চিহ্নিত করেছেন আব্দুল্লাহ বিন (ইমাম) হাসান নামে, শিশুটি বললো, “আল্লাহর শপথ, আমি আমার চাচার কাছ থেকে সরে যাবো না।”

[তাবারির গ্রন্থে আছে] বাহর বিন কা‘আব ইমাম হুসাইন (আ.) কে আঘাত করলো তার তরবারি দিয়ে এবং শিশুটি বললো, “দুর্ভোগ হোক তোমার হে খারাপ চরিত্রের লোকের সন্তান। তুমি কি আমার চাচাকে হত্যা করতে চাও?” অভিশপ্ত শয়তান তাকে তার তরবারি দিয়ে আঘাত করলো, তা শিশুটি তার দুহাতের উপর নিলো এবং তা গোশত পর্যন্ত কাটলো এবং ঝুলতে লাগলো। শিশুটি কেঁদে উঠলো, “ও মা, আমার সাহায্যে আসো।” ইমাম তাকে কোলে তুলে নিলেন এবং বললেন, “হে ভাতিজা, সহ্য করো এ পরীক্ষা এবং তা তোমার জন্য বরকত মনে করো। তুমি শীঘ্রই মিলিত হবে তোমার ধার্মিক পিতৃপুরুষদের সাথে যারা হলেন আল্লাহর রাসূল (সা.) , ইমাম আলী বিন আবি তালিব (আ.), হামযা (আ.), জাফর (আত তাইয়ার) (আ.) এবং (ইমাম) হাসান বিন আলী (আ.)।” এরপর তিনি তাঁর হাত তুললেন দোআ করার জন্য এবং বললেন, “হে আল্লাহ, আকাশের বৃষ্টি ও পৃথিবীর প্রাচুর্য তাদের জন্য স্থগিত করে দাও। ইয়া রব, যদি তুমি তাদের আরও কিছু দিনের জন্য জীবন দাও, তাহলে তাদেরকে বিতাড়িত করো এবং শাসকদেরকে তাদের উপর সব সময় অসন্তুষ্ট রাখো, কারণ তারা আমাদের আমন্ত্রণ করেছে সাহায্য করার জন্য কিন্তু এরপর আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং আমাদেরকে হত্যা করেছে।”

তাবারি বলেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) তখন পদাতিক সৈন্যদের আক্রমণ করেন এবং তাদেরকে তার কাছ থেকে ঠেলে সরিয়ে দেন।শেইখ মুফীদ বলেন যে, পদাতিক সৈন্যরা ইমাম হুসাইন (আ.) এর সাথীদেরকে বাম ও ডান দিক থেকে আক্রমণ করে এবং তাদেরকে হত্যা করে যতক্ষণ না তিন থেকে চারজন ইমামের সাথে রয়ে যান।

তাবারি এবং (ইবনে আসীর) জাযারি একই ভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, যখন ইমাম হুসাইন (আ.) এর সাথে মাত্র তিন থেকে চারজন সাথী ছিলো তিনি একটি লম্বা জামা চাইলেন যা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। তা ছিলো ইয়েমেনের এবং খুব সূক্ষ্মভাবে সেলাই করা, তিনি এর দুই পাশের কিছু অংশ ছিঁড়ে দিলেন যেন তা তার শরীর থেকে খুলে নেয়া না হয়। তার একজন সাথী বললেন, “আমার মনে হয় আপনার পোশাকের নিচে বর্ম পড়লে ভালো করতেন।” ইমাম বললেন, “তা হলো অপমানকর জামা এবং তা পড়া আমার জন্য মানায় না।” বলা হয় যখন তিনি নিহত হন, বাহর বনি কা‘আব তার জামাটি তার শরীর থেকে লুট করে নিয়ে যায়, তা আবরণহীন অবস্থায় রেখে।

আযদি বলেন যে, আমর বিন শুয়াইব বর্ণনা করেছে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান থেকে যে, বাহর বিন কা‘বের দুহাত দিয়ে শীতকালে পুঁজ বের হতো এবং গ্রীষ্মকালে তা কাঠের লাঠির মত শুকিয়ে যেতো।

শেইখ মুফীদ বলেন যে, যখন মাত্র তিন জন সাথী ইমাম হুসাইন (আ.) এর সাথে ছিলো তিনি শত্রুদের দিকে ফিরলেন এবং ঐ তিন জন তাঁকে রক্ষা করতে দাঁড়ালেন এবং সেনাবাহিনীকে তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন যতক্ষণ না তারা শহীদ হয়ে গেলেন এবং ইমাম একা হয়ে গেলেন। তিনি মাথায় এবং শরীরে আহত ছিলেন, এরপর তিনি তাদের আক্রমণ করলেন বাম দিক ও ডান দিক থেকে এবং তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিলেন।

হামীদ বিন মুসলিম বলে যে, “আল্লাহর শপথ, আমি একজন বিধ্বস্ত মানুষকে এত বীরত্ব প্রদর্শন করতে দেখিনি যার পুত্র সন্তানদের এবং বন্ধুদের হত্যা করা হয়েছে, তবুও তার হৃদয় ছিলো অপরাজেয়। পদাতিক সৈন্যরা তাকে আক্রমণ করেছে এবং তিনি তাদেরকে মোকাবিলা করেছেন এক নেকড়ের মত যে ভেড়ার পালকে আক্রমণ করে এবং তাদেরকে ডান-বামে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।” যখন শিমার তা দেখলো, সে অশ্বারোহীদের ডাকলো এবং পদাতিক সৈন্যদের সারির পেছনে তাদের অবস্থান নিতে বললো। এরপর সে তীরন্দাজদের আদেশ করলো ইমামের প্রতি তীর ছুঁড়তে। এমন সংখ্যায় তীর তার দেহে বিদ্ধ হলো যে তা দেখতে সজারুর কাটার মত লাগলো, তখন তিনি তাদের উপর থেকে তার হাত সরিয়ে নিলেন এবং তারা এগিয়ে এলো এবং তার দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে থাকলো।

যায়নাব (আ.) তাঁবুর দরজায় এলেন এবং উমর বিন সা’আদকে উচ্চ কণ্ঠে ডাকলেন, “দুর্ভোগ তোমাদের জন্য হে উমর (বিন সা’আদ) আবু আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হচ্ছে আর তুমি তাকিয়ে দেখছো?” সে কোন উত্তর দিলো না এবং তিনি আবার বললেন, “দুর্ভোগ তোমার উপর, তোমাদের মধ্যে কি একজন মুসলমানও নেই?” কিন্তু আবারও কেউ উত্তর দিলো না।

তাবারি বলেন যে, উমর বিন সা’আদ ইমাম হুসাইন (আ.) এর কাছে গেলো এবং যায়নাব (আ.) বললেন, “হে উমর বিন সা’আদ, আবু আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হচ্ছে আর তুমি তাকিয়ে দেখছো?”বর্ণনাকারী বলে যে, আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি তার গাল ও দাড়িতে অশ্রু ঝরছে এবং সে যায়নাব (আ.) এর দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।

সাইয়েদ ইবনে তাউস বলেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) অনেক আঘাতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন এবং তাকে সজারুর মত (তীরের কারণে) দেখতে লাগছিলো। সালেহ বিন ওয়াহাব ইয়াযনী একটি বর্শা তার একপাশে বিদ্ধ করে এবং তিনি ঘোড়া থেকে মাটিতে পড়ে যান বাম গালের ওপরে। এরপর তিনি বললেন, “আল্লাহর নামে, এবং আল্লাহর অনুমতিতে এবং আল্লাহর রাসূলের বিশ্বাসের ওপরে।” এরপর উঠে দাঁড়ালেন।

বর্ণনাকারী বলে যে, সাইয়েদা যায়নাব (আ.) তাঁবুর দরজা থেকে বেরিয়ে এলেন এবং উচ্চ কণ্ঠে বললেন, “হে আমার ভাই, হে আমার অভিভাবক, হে আমার পরিবার, হায় যদি আকাশ পৃথিবীতে ভেঙ্গে পড়তো এবং পাহাড়গুলো চূর্ণ হয়ে মরুভূমিতে ছড়িয়ে যেতো!”

বর্ণিত হয়েছে, শিমার তার সাথীদের উচ্চ কণ্ঠে ডেকে বললো, “এ মানুষটির জন্য তোমরা অপেক্ষা করছো কেন?” তখন তারা তাকে সব দিক থেকে আক্রমণ করলো।

হামীদ বিন মুসলিম বলে যে, ইমাম হুসাইন (আ.) একটি পশমী লম্বা জামা পড়েছিলেন এবং মাথায় পাগড়ী এবং চুলে ওয়াসমাহর কলপ ছিলো। আমি তাকে শহীদ হওয়ার আগে বলতে শুনলাম, যখন তিনি পায়ের উপর ছিলেন, কিন্তু যুদ্ধ করছিলেন যেন ঘোড়ায় চড়ে আছেন এবং নিজেকে তীর থেকে রক্ষা করছিলেন এবং অশ্বারোহী বাহিনী সব দিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছিলো এবং তিনি তাদের তরবারি দিয়ে আক্রমণ করলেন, “তোমরা একত্রে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছো? আল্লাহর শপথ, আমার পরে তোমরা আর কাউকে হত্যা করবে না যার হত্যাতে আল্লাহ তোমাদের উপর এর চাইতে বেশী ক্রোধান্বিত হবেন। আল্লাহর শপথ, আমি চাই যে আল্লাহ আমাকে ভালোবাসুন তোমাদের ঘৃণার পরিবর্তে এবং তিনি আমার প্রতিশোধ নিন তোমাদের উপর এমন এক মাধ্যমে যে সম্পর্কে তোমরা সচেতন নও। সাবধান, যদি তোমরা আমাকে হত্যা করো, আল্লাহও তোমাদেরকে হত্যা করবেন এবং তোমাদের রক্ত ঝরাবেন। এরপর তিনি তোমাদের উপর থেকে হাত সরিয়ে নিবেন না যতক্ষণ না তিনি ভয়ানক শাস্তিকে দ্বিগুণ করবেন।”

বর্ণিত আছে যে, তিনি সেদিন দীর্ঘ সময়ের জন্য বেঁচে ছিলেন এবং সেনাবাহিনী যদি চাইতো তাকে হত্যা করতে পারতো। কিন্তু তারা এ বিষয়ের জন্য একে অন্যকে উপযুক্ত মনে করলো এবং প্রত্যেক দল চাইলো অন্যরা তাকে হত্যা করুক। শিমার তাদের মাঝে চিৎকার করে বললো, “কিসের জন্য তোমরা অপেক্ষা করছো? এ লোককে হত্যা করো। তোমাদের মা তোমাদের জন্য কাঁদুক।” এরপর তারা তাকে সবদিক থেকে আক্রমণ করলো।

শেইখ মুফীদ বলেন যে, যারাহ বিন শারীক তার বাম হাতকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং তার কাঁধে তরবারির আরেকটি আঘাত বসিয়ে দেয় এবং তিনি তার মুখের উপর পড়ে গেলেন।তাবারি বলেন যে, তখন তারা পিছনে হটে গেলো এবং তিনি ছিলেন খুবই খারাপ অবস্থায় এবং তিনি উঠে দাঁড়ালেন ও পড়ে গেলেন। সেই মুহূর্তে সিনান বিন আনাস বিন আমর নাখাই তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলো এবং মাটিতে ফেলে দিলো। শেইখ মুফীদ ও তাবারসি বলেন যে, খাওলি বিন আল আসবাহি দ্রুত এগিয়ে এলো এবং ঘোড়া থেকে নেমে এলো তার মাথা বিচ্ছিন্ন করতে, কিন্তু সে কাঁপতে লাগলো। শিমার বললো, “আল্লাহ তোমার হাত ভেঙ্গে দিক, কেন তুমি কাঁপছো?” এরপর সে ঘোড়া থেকে নেমে এলো এবং তার মাথা কেটে ফেললো।

আবুল আব্বাস আহমেদ বিন ইউসুফ দামিশকি ক্বিরমানি তার ‘আখবারুল দাওল’ গ্রন্থে বলেছেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) এর পিপাসা তীব্র হয়ে উঠলো, কিন্তু তারা তাকে পানি পান করার জন্য পানি দেয় নি। এক পেয়ালা পানি তার হাতে এলো এবং তিনি উপুড় হলেন তা পান করার জন্য। হাসীন বিন নামীর তার দিকে একটি তীর ছুঁড়লো, যা তার থুতনি ভেদ করলো এবং পেয়ালাটি রক্তে ভরে গেলো। তখন তিনি তার দুহাত আকাশের দিকে তুলে বললেন, “হে আল্লাহ, তাদের সংখ্যা কমিয়ে দাও, তাদের প্রত্যেককে হত্যা করো এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকেও পৃথিবীর উপর ছেড়ে দিও না।” তখন তারা তাকে সব দিক থেকে আক্রমণ করলো এবং তিনি তাদেরকে বাম ও ডান দিকে তাড়িয়ে দিলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না যারাহ বিন শারীক তার বাম কাঁধে আঘাত করে এবং আরেকটি আঘাত কাঁধে ঢুকিয়ে দেয় এবং তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। শিমার তখন তার ঘোড়া থেকে নেমে এসে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং তা খাওলি আসবাহির হাতে হস্তান্তর করে। এরপর তারা তার জামা- কাপড় লুট করে।

সাইয়েদ ইবনে তাউস, ইবনে নিমা, শেইখ সাদুক্ব, তাবারি, ইবনে আসীর জাযারি, ইবনে আব্দুল বির, মাসউদী এবং আবুল ফারাজ বলেছেন যে, অভিশপ্ত সিনান (বিন আনাস) তার মাথা বিচ্ছিন্ন করেছিলো। সাইয়েদ ইবনে তাউস বলেন যে, সিনান এগিয়ে এলো এবং বললো, “যদিও আমি জানি যে সে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নাতি এবং তার মা-বাবা মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তবুও আমি তার মাথা কাটবো।” এরপর সে তার পবিত্র ঘাড়ে আঘাত করে তার তরবারি দিয়ে এবং তার পবিত্র ও সম্মানিত মাথা আলাদা করে ফেলে।

ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) বলেছেন, যখন ইমাম হুসাইন (আ.) এর বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন ফেরেশতারা আল্লাহর সামনে কাঁদতে থাকে এবং বলে, “হে আল্লাহ এ হুসাইন আপনার মেহমান, সে আপনার রাসূলের নাতি”, তখন আল্লাহ ইমাম আল ক্বায়েম (আল মাহদী)-এর একটি ছবি দেখালেন এবং বললেন, “আমি তাদের উপর প্রতিশোধ নিবো এর মাধ্যমে।”

বর্ণিত হয়েছে যে, মুখতার সিনানকে গ্রেফতার করে এবং তার প্রতিটি আঙ্গুল একের পর এক কেটে ফেলে। এরপর সে হাত দুটো ও পা দুটো কেটে ফেলে এবং তাকে একটি বড় পাত্রে ছুঁড়ে ফেলে, যাতে ছিলো ফুটন্ত জলপাই তেল।

বর্ণনাকারী বলেন, যে মুহূর্তে তারা ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাথা কেটে ফেললো ঠিক তখনই এক প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। আর তা পুরো দিগন্তকে অন্ধকারে ছেয়ে ফেললো। এরপর এক লাল ঝড় বইলো যার কারণে কিছু দেখা যাচ্ছিলো না এবং সেনাবাহিনী ভাবলো আল্লাহর অভিশাপ বোধ হয় নামলো। এরকম এক ঘণ্টা চললো এবং তার পর থামলো।

হিলাল বিন নাফে’ বল?

Categories
ঐতিহাসিক মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, বর্তমান যোগের ইমাম হুসাইন ,হিজবুল্লাহ প্রধান।

হাসান নাসারুল্লাহ্ ।

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, “আমরা এখন বড় ধরনের যুদ্ধের ময়দানে রয়েছি, আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল আমাদের ক্যাম্প বা শিবিরকে অবরুদ্ধ করে ফেলার চেষ্টা করছে।” গতরাতে (আশুরার আগের রাতে) দক্ষিণ বৈরুতে এক শোক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আমেরিকা, ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা আমাদের ক্যাম্প বা শিবির অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের এই ক্যাম্প বা শিবিরের নেতা হচ্ছেন ইমাম আলী খামেনেয়ী এবং এই ক্যাম্পের কেন্দ্রস্থল হচ্ছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।”

Categories
বিভাগবিহীন

অলিকুলের শিরোমনি, হযরত বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) এর জীবনী।

(কাল্পনিক ছবি)


অলিকুলের শিরমনী, কুতুবে রাব্বানী, মাহ্বুবে সোহ্বাহানী, হযরত বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ) এর মহিমান্বিত জীবনী,

১ রমজান ৪৭১ হিজরীতে ইরানের অন্তর্গত জিলান জেলার কাসপিয়ান সমুদ্র উপকূলের নাইদ নামক স্থানে বড় পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হযরত আবু সালেহ মুছা জঙ্গি (রাহ.) ও মাতার নাম সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা (রাহ.)। স্রষ্টার চূড়ান্ত দীদার লাভের উদ্দেশ্যে ১১ রবিউস সানী ৫৬১ হিজরী রোজ সোমবার ইহজগত ত্যাগ করেন। বর্তমানে ইরাকের বাগদাদ শহরে তাঁর মাজার শরীফ রয়েছে। গাউসূল আজম বড় পীর হিসেবে তিনি সকলের নিকট পরিচিত।
বাল্যশিক্ষা : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর বাল্যশিক্ষা মক্তবে শুরু হয়। প্রথম দিন মক্তবে গিয়ে দেখেন অন্যান্য ছাত্রদের ভিড়ে বসার কোনো জায়গা নেই। হঠাৎ করে উপর হতে গায়বী আওয়াজ আসল, হে মক্তবের ছাত্ররা! আল্লাহর অলির বসার স্থান প্রসস্ত করে দাও। গায়বী আওয়াজ আসার সাথে সাথে সকল ছাত্ররা চেপে বসলেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) এর বসার ব্যবস্থা হয়ে গেল। প্রথম দিনেই অবাক কা-! মক্তবের শিক্ষক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)কে আউযু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ সবক দানের সাথে সাথে হযরত বড় পীর কোরআন মজিদের প্রথম ১৮ পাড়া পর্যন্ত মুখস্ত বলে ফেললেন। মক্তবের শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, হে বৎস! তুমি কিভাবে কোরআন মুখস্ত করেছো! আজ মক্তবে তোমার প্রথম দিন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেন, আমার মাতা ১৮ পাড়ার পর্যন্ত কোরআন মুখস্ত করেছিলেন। আমি গর্ভে থাকাকালীন সময় তিনি কোরআন পাঠ করতেন। আমি মায়ের তেলাওয়াত শুনে শুনে ১৮ পাড়া পর্যন্ত মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে মুখস্ত করে ফেলেছি।
ভূমিষ্ঠ হয়ে শরীয়ত পালন : ২৯ শাবান। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় জিলানবাসীদের কেউ রমজানের চাঁদ দেখতে পায়নি। সকলে রোজা রাখা না রাখার বিষয় নিয়ে সংশয়ের মধ্যে পড়ে গেলেন। এমতবস্থায় রাতের শেষাংশে সুবহে সাদেকের পূর্বে তথা ১ রমজান ধরাধামে আসেন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)। শিশু আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) জন্মের পর সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত দুধ ও মধু পান করেন। কিন্তু সুবহে সাদিকের পর তাকে আর কিছু খাওয়ানো যায়নি। এ আশ্চার্যজনক খবর ছড়িয়ে পড়লে সকলে বুঝতে পারল মাহে রমজান শুরু হয়েছে।
গায়বী জ্ঞান ও ওয়াজ নসিহত : ৫২১ হিজরীর ১৬ শাওয়াল রোজ মঙ্গলবার রাসূল (সা.) স্বপ্নযোগে বলেন, হে আবদুল কাদির! তুমি মানুষকে কেন আল্লাহর পথে আহ্বান করছো না। মানুষকে কেন বঞ্চিত করছো। আবদুল কাদের (রহ.) বলেন, আমি রাসূল (সা.) ও আলী (রা.)-এর আওলাদ। আমি তো আরবী জানিনা। যদি ইরাকের লোকজন তিরস্কার করেন। তাৎক্ষণিক রাসূল (সা.) বলেন, আবদুল কাদের তুমি মুখ খোল। রাসূল (সা.) কিছু একটা পড়ে ৬ বার মুখের মধ্যে ফুক দিলেন এবং রাসূল (সা.)-এর মুখের লালা আবদুল কাদের জিলানীর মুখে লাগিয়ে দিলেন। অতপর বললেন, মানুষকে হিকমত এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তোমার প্রভুর পথে পরিচালিত করো। (সূরা নাহল, আয়াত-১২৫)। এর পর থেকে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর মাহফিলে এমন তাসির হতো যে, প্রত্যেক মাহফিলে ২/৩ জন লোক প্রভুর প্রেমে এশকে ফানা হয়ে মারা যেতো।
হিজরত ও সত্যবাদিতা : তৎসময় কালে ইরাকে ভালো পড়াশুনা ও ব্যবসার সুযোগ ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পড়াশুনা ও ব্যবসার জন্য মানুষ বাগদাদ আসত। পড়াশুনার উদ্দেশ্যে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ব্যবসায়িক কাফেলার সাথে বাগদাদ যাওয়ার পথে ডাকাতের কবলে পড়েন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)কে ডাকাত সর্দার জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সাথে কি আছে? তিনি বললেন, আমার নিকট ৪০টি স্বর্ণ মুদ্রা আছে। ডাকাত সর্দার আশ্চার্যন্বিত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন হে যুবক! তুমি তো মিথ্যা কথা বলে আমার নিকট থেকে স্বর্ণ মুদ্রা লুকাতে পারতে। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বললেন, মিথ্যা কথা বলতে আমার মা নিষেধ করেছেন। এ কথা শুনে ডাকাত সর্দার বললেন, মায়ের আদেশ যুবক তুমি এভাবে পালন কর। নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর আদেশ আরো যতেœর সাথে পালন করো। আর আমি ও অন্যান্য ডাকাতরা তো আল্লাহর আদেশই পালন করি না। মায়ের কথা তো অনেক দূরের কথা। এই বলে ডাকাত সর্দার আপসোস করতে থাকেন ও বলেন, হে বালক ! তুমি সাধারণ কোন মানুষ না। হে বালক তুমি আমাকে কলেমা পড়াও। ডাকাত সর্দারের সাথে আরো ৬০ জন অশ্বারোহী ডাকাত ছিলেন। তারাও কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন।
ইবাদতের কঠোর সাধনা : তিনি একাধারে ৪০ বছর পর্যন্ত ইশার নামাজের অযু দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন। প্রত্যহ শেষ রাত্রে পাঠ করতেন, আল মুহিতুল আলমে, আর রাব্বুশ শহীদ, আল হাসীবুল ফায়্যায়িল খাল্লাকি, আল খালিকু, আল বারিউ, আল মুসাব্বিরু। উক্ত দোয়া পাঠ করার সাথে সাথে লোক চক্ষুর সামন থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতেন। তিনি রাতের একটা সময় জিকির ও মোরাকাবা করে কাটাতেন। যৌবনের অধিকাংশ সময় রোজা রেখে কাটিয়েছেন। যখন নফল নামাজ আদায় করতেন সুরা ফাতেহার পর সূরা আর রহমান, সূরা মুজাম্মিল কিম্বা সুরা ইখলাস পড়তেন। তন্দ্রার ভাব আসলে দেখে দেখে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।
কাদেরীয়া তরিকার প্রবর্তক : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। মুসলামানকে ভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। মানুষকে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) মুখী করার জন্য বিভিন্ন আমল বাতলিয়ে দিতেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) যখন দুনিয়ার জীবন ত্যাগ করে পরপারে যান। তখন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ভক্ত অনুসারীরা তাঁর আমল ও চরিত্রকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে কাদেরীয়া তরিকা প্রবর্তন করেন। সে সময়কাল থেকে কাদেরীয়া তরিকার প্রচলন আমাদের দেশেও প্রচলিত হয়েছে।
বেলায়াতের উচ্চস্তরের গাউসূল আজম সারা জাহানে প্রত্যেক জামানায় ৩১৩ জন অলি জমিনে বিদ্যমান থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর শান মান প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত থাকেন। সূফীতাত্ত্বিক পরিভাষায় তাঁদের আখইয়ার বলা হয়। ৩১৩ জন অলির মধ্যে ৪০ জন আবদাল, ৭ জনকে আবরার, ৫ জনকে আওতাদ, ৩ জন নকীব, ৪ জন নুজবা ও ১ জন গাউসূল আজম থাকেন। যাকে কুতুবুল আউলিয়া বা সুলতানুল আউলিয়া বলা হয়। বাকিরা অন্যান্য সাধারণ পর্যায়ের অলি। তৎজমানায় গাউসগণের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত, বেলায়েতে ওজমা ও গাউসিয়তে কোবরার সুমহান আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি হচ্ছেন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)।
গাউসে পাকের বেলায়েতের ব্যাপকতা : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) রুহানী ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে ইসলামের প্রচার প্রসারে ৩৪২ জন আউলিয়া সারা বিশ্বে আল্লাহর সৃষ্টির খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। ইহার মধ্যে মক্কা-মদিনাতে ১৭ জন, ইরাকে ৬০ জন, সিরিয়াতে ৩০ জন, মিশরে ২০ জন, পশ্চিমাদেশে ২৭ জন, পূর্বদেশীয় অঞ্চলে ২৩ জন, আবিসিনিয়াতে ১১ জন, ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীরাংশে ১৭ জন, লংকাতে ১৭ জন, কুহেকাফে ৪০ বাহরে মুহীতে ৪০ জন।
উপাধিসমূহ : হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর বেলায়েতের পরিচিতি বিশ্বব্যাপী ছিল। তিনি বিভিন্ন দেশে মানুষের নিকট ভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর উপাধিগুলো হলো যথাক্রমে- গাউসূল আজম, বড় পীর, মাহবুবে সোবহানী, মহিউস সুন্নাহ, কুতুবে রাব্বানী, ইমামুল আউলিয়া, সৈয়দ, পীর, মীর, মহিউদ্দিন, কামিউল বিদায়াত, নূরে হক্কানী, পীরানে পীর, জিলানী ইত্যাদি।
শেষ কথা : ১১ রবিউস সানি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্বির্য্যরে মাধ্যমে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর ওফাত দিবস উপলক্ষে ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম পালিত হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক চন্দ্র মাসের ১১ তারিখ কাদেরীয়া তরিকার অনুসারীরা হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর ওফাতের তারিখে গেয়ারভী শরীফ পালন করেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর আদর্শিক জীবনধারা থেকে শিক্ষা নেয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে। বড় পীরের আদর্শিক জীবনের সামান্য অংশ যদি আমরা পালন করতে সক্ষম হই। তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর সন্তোষ্টি অর্জন সম্ভব। আল্লাহ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে মহান অলি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন।

Categories
বিভাগবিহীন

লোকমুখে নারীদের চারটি প্রকার সম্পর্কে ধারনা। চিন্তামনি, পদ্মিনী , হস্তিনী, সংখিনী।


নারীর মনের গভীরতা ও শারীরিক বর্ণনার রহস্য কি এত সহজে করা সম্ভব? কখনও কি জানতে পেরেছে পুরুষ, কতটা পথ পেরলে তবে নারী হওয়া যায়? নারী কথাটা শুনতে যতটা সহজ বুঝতে ততটাই কঠিন।
তাই যুগে যুগে কবিরা বলে এসেছেন, প্রকৃতির মতো নিবিড় রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই নারী শক্তির মধ্যে। তবে এই রহস্য জানার বা বোঝার চেষ্টা আদিকাল থেকেই চলে আসছে। আদিকাল থেকেই পণ্ডিতরা নারীকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন— পদ্মিনী, চিত্রিণী, শঙ্খিনী ও হস্তিনী। এ বার এই চারটি শ্রেণির নারীকে কী ভাবে চেনা যায় তার উপায় দেখে নেওয়া যাক।

চিন্তামনী/চিত্রিনী নারীঃ
এই রমণীর শরীর দীর্ঘ বা হ্রস্ব কোনওটাই হয় না, প্রমাণ শরীরের অধিকারী হন এই চিত্রিণী নারীরা। এঁদের নাভি হয় সুগভীর। মৃদু হাসি মুখে প্রায়ই লেগে থাকে। ধীরেসুস্থে চলাফেরা করেন,কোনও কাজে অস্থিরতা দেখান না। চুল হয় মসৃণ। খাওয়া ও ঘুম হয় মধ্যম। শরীর হয় খুব নরম। অন্য পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ একদমই থাকে না।


 
পদ্মিনীঃ
এই রমণীর নামেই লুকিয়ে আছে এদের রহস্য। এদের শরীর হয় ভীষণ আকর্ষণীয়। এঁদের চোখ হয় পদ্মের মতো। মুখে স্মিত হাসি লেগেই থাকে। কোঁকড়ানো চুল। এঁরা মধুর ভাষিণী হন। সাধারণত এঁরা সত্যি কথা বলতে পছন্দ করেন। অতি যৌনতা এঁদের একদম পছন্দ নয়। বরং ঘুম এঁদের ভীষণ প্রিয়। পুজোপাঠ করতে খুব ভালবাসেন ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি সর্বদা থাকে। শরীর হয় সুললিত। এক কথায়, সুন্দর হন এঁরা। নাচ-গানে পারদর্শী হন। রমণীকুলে এঁদের সর্বোত্তম মানা হয়। 


 
শঙ্খিনীঃ
এই ধরনের রমণী হন দীর্ঘ শরীরের অধিকারী। এঁদের চোখ, কান, নাক ও হাত-পা খুব বড় হয়। এঁরা একটু চঞ্চল প্রকৃতির হন। শঙ্খিনী নারীরা হন মধ্যম প্রকৃতির।
হস্তিনী
সাধারণত ভারী শরীরের অধিকারী হন এই রমণীরা। গলার আওয়াজ হয় প্রচণ্ড তীব্র। জোরে কথা বলেন। প্রচুর পরিমাণে খেতে ও ঘুমোতে ভালবাসেন। অনেকের মিথ্যা বলার অভ্যাস দেখা যায়। ধর্মে-কর্মে মন প্রায় থাকে না বললেই চলে। পরকিয়াতেও নাকি আসক্তি থাকে এঁদের কারও কারও।

Categories
বিভাগবিহীন

বাংলাদেশের ৩৬০ জন মহান অলি আউলিয়ার নাম গুলো দেখে নিন।

AddText_০৯-০৭-০৭.২৪.০৮.JPEG

বাংলার ৩৬০ আউলিয়া নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য রহমত। তারা যদি বাংলায় এসে ইসলাম প্রচার না করতো তবে আজ আমরা সীরাতুল মোস্তাকিমের অনুসারী হতে পারতাম না। আল্লাহর কতইনা প্রিয় বান্দা ছিলো তারা! আল্লাহ ওনাদের ওসিলায় আমাদের জীবনের গুনাহ ক্ষমা করুক। নিচে বাংলার ৩৬০ আউলিয়ার নাম উল্লেখ করা হলোঃ

০১। হযরত শাহ জালাল ইয়ামনী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০২। হযরত শাহ্ পরান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০৩। হযরত শাহ্ জাদ আলী ইয়ামনী (১ম)রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০৪। হযরত আলী ইয়ামনী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০৫। হযরত আরিফ ইয়ামানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০৬। হযরত কামাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০৭। হযরত মুহম্মদ আইয়ুব ইয়ামানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০৮। হযরত শাহ্ তাজ উদ্দিন কোরেশী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
০৯। হযরত শাহ্ হেলিম উদ্দিন কোরেশী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১০। হযরত শাহ দাউদ কোরেশী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১। হযরত চাশনী পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২। হযরত যাকারিয়া আরবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩। হযরত জৈন উদ্দিন আব্বাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪। হযরত নিজাম উদ্দিন বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫। হযরত খাজা অজীহ উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬। হযরত খাজা আজিজ চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭। হযরত আমীর উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮। হযরত খাজা আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯। হযরত খাজা আদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০। হযরত খাজা আদিনা রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২১। হযরত খাজা ইসা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২। হযরত খাজা ইকবাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩। হযরত খাজা ইখতিয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪। হযরত খাজা উমর চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫। হযরত খাজা তৈয়ব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬। হযরত খজা দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭। হযরত খাজা নাসি উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮। হযরত খাজা নাসির উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯। হযরত খাজা পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০। হযরত খাজা বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩১। হযরত খাজা বাহাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২। হযরত খাজা সেলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩। হযরত খাজা সুফিয়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪। হযরত খাজা সিরাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫। হযরত হযরত সৈয়দ আজীজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৬। হযরত হযরত সৈয়দ আজীরান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৭। হযরত সৈয়দ আলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৮। হযরত সৈয়দ আহমদ কবির রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৯। হযরত সৈয়দ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪০। হযরত সৈয়দ আহমদ (২য়)রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪১। হযরত সৈয়দ আব্বাস রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪২। হযরত সৈয়দ আবু রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪৩। হযরত সৈয়দ আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪৪। হযরত সৈয়দ আব্দুল করীম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪৫। হযরত সৈয়দ আজিয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪৬। হযরত সৈয়দ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪৭। হযরত সৈয়দ ইয়াকুব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪৮। হযরত সৈয়দ ইসা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪৯। হযরত সৈয়দ উমর সমরকন্দি রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫০। হযরত সৈয়দ ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৫১। হযরত সৈয়দ কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫২। হযরত সৈয়দ কুতুব উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫৩। হযরত সৈয়দ কাসিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫৪। হযরত সৈয়দ খলিল উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫৫। হযরত সৈয়দ জাহান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫৬। হযরত সৈয়দ জওয়াহীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫৭। হযরত সৈয়দ জলীল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫৮। হযরত সৈয়দ জমিল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫৯। হযরত সৈয়দ জাহাঙ্গীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬০। হযরত সৈয়দ তাজ উদ্দিন শাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৬১। হযরত সৈয়দ দৌলত রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬২। হযরত সৈয়দ দৌলত রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬৩। হযরত সৈয়দ নাসির রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬৪। হযরত সৈয়দ নসর উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬৫। হযরত সৈয়দ ফখরুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬৬। হযরত সৈয়দ ফরিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬৭। হযরত সৈয়দ বদর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬৮। হযরত সৈয়দ বদরুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬৯। হযরত সৈয়দ বাহাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭০। হযরত সৈয়দ বাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৭১। হযরত সৈয়দ বায়োজিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭২। হযরত সৈয়দবুজুগ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭৩। হযরত সৈয়দ মুনইম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭৪। হযরত সৈয়দ মোখতার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭৫। হযরত সৈয়দ মুহব্বত রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭৬। হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭৭। হযরত সৈয়দ মুহম্মদ গজনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭৮। হযরত সৈয়দ মুহামদ জান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭৯। হযরত সৈয়দ রওশন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮০। হযরত সৈয়দ রুকুনুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৮১। হযরত সৈয়দ সয়েফ উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮২। হযরত সৈয়দ সিকান্দার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮৩। হযরত সৈয়দ সিকান্দার (২য়)রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮৪। হযরত সৈয়দ লাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮৫। হযরত সৈয়দ হামাজা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮৬। হযরত কাজী আমি ইদ্দন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮৭। হযরত কাজী আলীম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮৮। হযরত কাজী জালাল উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৮৯। হযরত কাজী ওমর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯০। হযরত কাজী জাহান রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৯১। হযরত কাজী তাজউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯২। হযরত কাজী ফয়জুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯৩। হযরত কাজী ফৈয়াজ উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯৪। হযরত কাজী ফিরোজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯৫। হযরত কাজী ফকীর উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯৬। হযরত গাজী মুলক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯৭। হযরত কাজী জয়েব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯৮। হযরত হাজী গাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৯৯। হযরত হাজী ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০০। হযরত হাজী আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১০১। হযরত হাজী আহমদ (২য়)রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০২। হযরত হাজী খলীল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০৩। হযরত হাজী কিজির রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০৪। হযরত হাজী মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০৫। হযরত হাজী মুহম্মদ জাকারিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০৬। হযরত হাজী সমশেদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০৭। হযরত হাজী মুহম্মদ দরিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০৮। হযরত হাজী মুহম্মদ শরীফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১০৯। হযরত হাজী লতিফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১০। হযরত হাজী ওমর চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১১১। হযরত হাজী কাশেম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১২। হযরত হাজী গয়লা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১৩। হযরত শাহ চাঁদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১৪। হযরত শাহ চট রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১৫। হযরত শাহ কামাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১৬। হযরত শাহ নূর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১৭। হযরত শাহ কালু রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১৮। হযরত মদন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১১৯। হযরত শাহ ফরাঙ্গ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২০। হযরত শাহ মালুম রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১২১। হযরত শাহ রফীউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২২। হযরত শাহ শমস উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২৩। হযরত শাহ সনজর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২৪। হযরত শাহ সদর উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২৫। হযরত শাহ সিকান্দার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২৬। হযরত শাহসোনদার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২৭। হযরত শাহ বাজ আনসারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২৮। হযরত আরেফীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১২৯। হযরত শাহ বদর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩০। হযরত শাহ মাহমুদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৩১। হযরত শাহ সুলতান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩২। হযরত শাহ সাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩৩। হযরত শাহ বাগদাদ আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩৪। হযরত শাহ দুধ মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩৫। হযরত শাহ জামাল উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩৬। হযরত শাহ পাতা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩৭। হযরত শেখ জামাল উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩৮। হযরত শেখ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৩৯। হযরত সৈয়দ হোসেন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪০। হযরত সৈয়দ আমীল রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৪১। হযরত শেখ আসগর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪২। হযরত শেখ আব্দুল ফজর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪৩। হযরত শেখ আব্দুল আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪৫। হযরত শেখ আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪৬। হযরত শেখ ইলিয়াস রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪৭। হযরত শেখ ইসা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪৮। হযরত শেখ ওমর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৪৯। হযরত শেখখাজা ওমর জাহান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫০। হযরত শেখ ওসমান রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৫১। হযরত শেখ কুতুব উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫২। হযরত শেখ কালু রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫৩। হযরত শেখ খিজির খাসদবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫৪। হযরত শেখ খিজির রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫৫। হযরত শেখ গরীব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫৬। হযরত শেখ জকাই রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫৭। হযরত শেখ জামাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫৮। হযরত শেখ জামিল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৫৯। হযরত শেখ জিয়া উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬০। হযরত শেখ তাহির রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৬১। হযরত শেখ নসরত রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬২। হযরত শেখ নিয়ামত উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬৩। হযরত শেখ মুসা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬৪। হযরত শেখ মুহম্মদ কিবারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬৫। হযরত শেখ মুহম্মদ কমর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬৬। হযরত শেখমুহম্মদ দানা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬৭। হযরত শেখ শমস রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬৮। হযরত শেখ সফর উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৬৯। হযরত শেখ সাহদা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭০। হযরত শেখ সাবু রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৭১। হযরত শেখ সলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭২। হযরত শেখ সলেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭৩। হযরত শেখ সিরাজ উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭৪। হযরত শেখ সদর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭৫। হযরত শেখ হেলিম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭৬। হযরত শেখ হোসেন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭৭। হযরত শেখ হোসেন (২য়)রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭৮। হযরত আজিজ চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৭৯। হযরত হাফেজ আতা উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮০। হযরত ইমাম শুকুর উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৮১। হযরত মুজাফফর বিহারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮২। হযরত মুহম্মদ বিহারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৩। হযরত হেলিম উদ্দিন বিহারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৪। হযরত হাসান উদ্দিন বিহারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৫। হযরত আদম বাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৬। হযরত আজিজ আশকারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৭। হযরত আরিফ মুলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৮। হযরত আলাউদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৯। হযরত আহমদ আব্বাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯০। হযরত আহমদ নিশান রহমতুল্লাহি আলাইহি।

১৯১। হযরত আবু তোরাব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯২। হযরত আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯৩। হযরতআবুল খায়ের রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯৪। হযরত আবুল আরিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯৫। হযরত আবু বকর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯৬। হযরত আব্দুল আজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯৭। হযরত আব্দুল জলিল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯৮। হযরত আব্দুল মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৯৯। হযরত আব্দুল শুকুর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০০। হযরত আব্দুল হেলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২০১। হযরত আব্দুর রহিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০২। হযরত আব্দুল মালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০৩। হযরত আব্দুল আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০৪। হযরত মুহম্মদ আনসারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০৫। হযরত আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০৬। হযরত মুহ্মদ আশিক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০৭। হযরত মুহম্মদ মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০৮। হযরত মুহম্মদ ইয়াসিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২০৯। হযরত মুহম্মদ শহীয়াল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১০। হযরত মুহম্মদ সালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২১১। হযরত মুহম্মদ সেলাদার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১২। হযরত মুহম্মদ জানেদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১৩। হযরত মুহম্মদ তকী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১৪। হযরত মুহম্মদ নূর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১৫। হযরত মুহম্মদ লতীফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১৬। হযরত মুহম্মদ সাহাবানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১৭। হযরত মুহম্মদ হাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১৮। হযরত মুহম্মদ সিকন্দর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২১৯। হযরত মুহম্মদ শাহ বাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২০। হযরত শুজা রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২২১। হযরত মুহম্মদ নকী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২২। হযরত মুহম্মদ কাবেরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২৩। হযরত মুহম্মদ দরিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২৪। হযরত মুহম্মদ মিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২৫। হযরত মুহম্মদ সৈয়দ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২৬। হযরত মাওলানা কিয়াম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২৭। হযরত মখদুম হাবীব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২৮। হযরত মখদুম রহিম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২২৯। হযরত মখদুম নিজাম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩০। হযরত মখদুম জাফর গজনবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৩১। হযরত মসদুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩২। হযরত মসউদ মূলক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩৩। হযরত মহী উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩৪। হযরত মহীব আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩৫। হযরত মওদ্দোদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩৬। হযরত মারুফ সেলাদার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩৭। হযরত বুরহান উদ্দিন বুরহান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩৮। হযরত বুরহান উদ্দিন আহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৩৯। হযরত বুরহান উদ্দিন কাত্তাল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪০। হযরত বদর মূলক রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৪১। হযরত দায়দ মুলক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪২। হযরত তাজমুলক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪৩। হযরত জয়েদ উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪৪। হযরত জয়েদ উদ্দিন আব্বাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪৫। হযরত জিয়া উদ্দিন মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪৬। হযরত জিয়া উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪৭। হযরত জিন্দা পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪৮। হযরত জুনায়েত গুজরাতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৪৯। হযরত ইসমাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫০। হযরত ইশা চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৫১। হযরত ইমাম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫২। হযরত এতিম শাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫৩। হযরত ক্বারী এহিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫৪। হযরত ওসমান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫৫। হযরত ওসমান উদ্দিন (২য়)রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫৬। হযরত ওমর দরিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫৭। হযরত করীম দাদ রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫৮। হযরত কামাল উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৫৯। হযরত কালা মিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬০। হযরত কুতুব আলম রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৬১। হযরত কাসিম দক্ষিগী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬২। হযরত গরীব খাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬৩। হযরত গণি মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬৪। হযরত গয়বী পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬৫। হযরত গোলাম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬৬। হযরত দেলওয়ার খতীব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬৭। হযরত দাওর বখত খতীব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬৮। হযরত দাদা পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৬৯। হযরত দৌলত গনী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭০। হযরত দৌলত গাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৭১। হযরত দৌরত মুনিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭২। হযরত নূহ মূলক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭৩। হযরত নুরুল উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭৪। হযরত নরুল হুদা রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭৫। হযরত নূর আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭৬। হযরত নিজাম উদ্দিন কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭৭। হযরত নিমাজ উদ্দিন বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭৮। হযরত পীর আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৭৯। হযরত পীল মূলক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮০। হযরত জিয়া উদ্দিন প্রমূখ পীর পাঞ্জাতন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৮১। হযরত জিয়া উদ্দিন প্রমূখ পীর পাঞ্জাতন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮২। হযরত জিয়া উদ্দিন প্রমূখ পীর পাঞ্জাতন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
১৮৩। হযরত জিয়া উদ্দিন প্রমূখ পীর পাঞ্জাতন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮৪। হযরত পর্বত গান পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮৫। হযরত ফরিদ আনসারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮৬। হযরত ফরিদ রওসন চেরাগ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮৭। হযরত ফতেহ গাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮৮। হযরত হযরত ফিরোজ আজবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৮৯। হযরত ফরু জায়েদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯০। হযরত দেওয়ান ফতেহ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২৯১। হযরত আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯২। হযরত খান্ডা ঝকমক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯৩। হযরত তিব সালামী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯৪। হযরত আবু দৌলদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯৫। হযরত বাহার আশকারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯৬। হযরত রুকুনুদ্দিন আনসারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯৭। হযরত সুলতান শাহ সিকান্দার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯৮। হযরত কিকান্দার তবলিয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২৯৯। হযরত সোনা গাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০০। হযরত সোহাব উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩০১। হযরত সালেহ মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০২। হযরত সিকান্দার সলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০৩। হযরত লাল সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০৪। হযরত উল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০৫। হযরত হাবীব গাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০৬। হযরত হাফেজ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০৭। হযরত হেলিম উদ্দিন নূরনানি রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০৮। হযরত হামিদ ফরুকি রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩০৯। হযরত হায়দার গাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১০। হযরত হাসেম চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩১১। হযরত মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১২। হযরত হুয়ান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১৩। হযরত হিমান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১৪। হযরত হাসান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১৫। হযরত হাফেজ ফসী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১৬। হযরতগোলাম (২য়)রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১৭। হযরত সূফী হোসেন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১৮। হযরত দেওয়ান খলীল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩১৯। হযরত হাজী জমশেদ খতীব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২০। হযরত শেখ নসর রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩২১। হযরত মখদুম সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২২। হযরত শাহ্ দেওয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২৩। হযরত শরীফ আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২৪। হযরত লাল সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২৫। হযরত সুফী হোসেন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২৬। হযরত মাদু সৈয়দ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২৭। হযরত গরম দেওয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২৮। হযরত মোকতার সহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩২৯। সামসুদ্দিনীন বিহারী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩০। হযরত দরিয়া পীর রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৩১। হযরত সৈয়দ বুরুজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩২। হযরত উজরান রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩৩। হযরত হাসামদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩৪। হযরত হাইবুল্লাহ খতীব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩৫। হযরত খাজা ইউবুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩৬। হযরত মারুফ সিলাদার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩৭। হযরত মুহম্মদ সিরাদর রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩৮। হযরত ফরিদ উদ্দিন রৌশন সিরাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৩৯। হযরত মাওলানা কিয়াম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪০। হযরত তাজ মালী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৪১। হযরত খাজা পায়ার রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪২। হযরত শেখ বেজ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪৩। হযরত আদম খাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪৪। হযরত ইমাম উদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪৫। হযরত মুহম্মদ আইয়ুব ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪৬। হযরত জামিল রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪৭। হযরত হামিদ উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪৮। হযরত জিয়া উদ্দি আহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৪৯। হযরত সয়দ আব্দুল করীম রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫০। হযরত হযরত গনী আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩৫১। হযরত তৈয়ব সেলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫২। হযরত আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫৩। হযরত শেখ শাহ ফেনি রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫৪। হযরত হাজী শরীফ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫৫। হযরতশাহ গিয়াস আলী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫৬। হযরতমুহম্মদ নকী বাবু দৌলত রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫৬। হযরত হাফিজ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫৮। হযরত শাহ বাবা মিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৫৯। হযরত বন্ধু শাহ দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩৬০। হযরত বাবা আইনুদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি।

সূত্র: হযরত বুরহান উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনী গ্রন্থ গোলজারে আলম লেখক: ক্বারী মোহাম্মদ নূর উদ্দিন চিশতী ৭০ পৃষ্ঠা হইতে ৭৩ পৃষ্ঠা পযর্ন্ত।

Categories
বিভাগবিহীন

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস ও অলি আউলিয়াদের অবদান । পর্ব-২।

আর্য-ব্রাহ্মণ মানুষকে নিজেদের দুবিধামত চার শ্রেণীতে বিভক্ত করে নিয়েছিল- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র। এই চতুর্থ শ্রেণীর মানুষ শুদ্রদের পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট গণ্যকরা হতো। “আর তথাকথিত স্থানীয় ‘দাস’ ‘শূদ্র’ ও ‘অন্ত্যজ’- এক কথায় ‘অনার্য’ শ্রেণীর জীবন ছিল বিড়ম্বিত। ব্রাহ্মণরা তাদের পৌরোহিত্য পর্যন্ত করতনা। তাদের অন্ন গ্রহণ ছিল ব্রাহ্মণদের জন্য নিষিদ্ধ। এ বিধান অমান্য করলে ব্রাহ্মণদের প্রায়শ্চিত্য করতে হতো। অনার্যরা ছিল অস্পৃশ্য। তাদের ছায়া মাড়ালে ও পবিত্র হওয়ার জন্য ব্রাহ্মণদের ¯ স্নান করতে হতো। তাদের চেষ্টায় কঠোর শাস্ত্রীয় অনুশাসন শূদ্রদের চেয়ে নীচ আরো কয়েকটি অন্ত্যজ শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছিল। এদের শূদ্রের চেয়েও নিকৃষ্ট মনে করা হতো। তাদেরকে মাণুষই মনে করা হতো না। তাদের জীবন ছিল পশুর চেয়েও অধম। এই চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর অথার্ৎ শূদ্র ও তার নীচ শ্রেণীর লোকেরা লোকালয়ের বাইরে হীন জীবন-যাপন করতে বাধ্য হতো। কোনক্রমে পথ অতিক্রম কালে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের অজ্ঞাতসারে যদি শাস্ত্র বাণী শুনে ফেলত, তবে তাদের ‘কর্ণকুহরে’ গলিত শীসা ঢেলে দিয়ে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা ছিলো। স্বঘোষিত কিছু সংখ্যক উচ্চ বর্ণীয় হিন্দু ছাড়া বাকি সব হিন্দু-বৌদ্ধদের উপর আর্য-ব্রাহ্মণ-সেনদের নির্যাতনের কাহিনী এখনো বাংলা সাহিত্যে পাতায়-পাতায় স্বাক্ষী হয়ে আছে।

এই প্রসঙ্গে ড: আরবিন্দ পোদ্দার বলেন, ‘সুতরা হিন্দু সমাজের বিধানদাতাদের নিকট থেকে যারা শুধু উৎপীড়ন ছাড়া আর কিছুই লাভ করেনি; সূফি সাধক ও পীর- দরবেশগণ তাদের দিলেন মুক্ত মানুষের অধিকার, শুধু তাই নয়, তারা ব্রাহ্মণদের উপরেও প্রভুত্ব করার ক্ষমতা দিলেন । সামাজিক চিন্তাধারার ক্ষেত্রে এই উদারতা এবং সমানাধিকারের আদর্শ ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান।’

পীর-আউলিয়াদের আগমনের ফলেই এদেশে নির্যাতিত অবহেলিত মানুষ নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করলো। তারা নিজেদের মানুষের মত মানুষ হিসেবে রুপান্তরিত করার সাহস সঞ্চয় করতে সক্ষম হলো। ড: গোলাম সাকলায়েন বলেন, এদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ সমাজ মননে ও চিন্তায় মুসলিম সূফী-সাধক-পীর দরবেশদের নিকট এমন অনাড়ম্বর সহজ, সরল জীবনাচরণের আদর্শ লাভ করল যা তাদের কাছে সম্পূর্ণ অভিনব এবং বিস্ময়কর। প্রকৃত প্রস্তাবেমুসলিম পীর- ফকিরগণ ইসলামের মহিমা ও ঐশ্বর্য অনাড়ম্বরভাবে তুলে ধরার এবং জনসাধারণের ব্যাথা-বেদনা ও বিষাদের অংশ নিজেরা বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করায়, বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষ অসংকোচে ইসলাম বরণ করে; ফলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক নতুন সমাজ ব্যবস্থার পত্তন হয়।৫ ইতোপূর্বে ব্রাহ্মণ্যধর্ম সকল মানুসের ধর্ম হয়ে উঠতে সেখানে ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানে ইসলাম হয়ে উঠে সর্বজনীন। সমগ্র সৃষ্টিকুলের কল্যাণের বার্তা নিয়েই ইসলামের আগমন হয়েছে। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলা হয়েছে- সমগ্র সৃষ্টির কল্যাণ’ – ‘ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামীন’ (আল কুরআন)। যার সত্যতা বাস্তবায়িত হয় এই বাংলা-ভারত উপমহাদেশে সূফী দরবেশদের আগমনের ফলে। গোপাল হালদার বলেন- “ইসলামে নেই পুরোহিততন্ত্রের ও জাতিভেদের স্থান ……. ইসলাম দেশগত বা জাতিগত ধর্ম নয়, সকল মানুষের একমাত্র ধর্ম হবার অধিকার রাখে। ইসলাম প্রচারশীল ধর্ম। উহা অন্যকে জয় করেই ক্ষান্ত হয়না, কোলেও টেনে নেয়। তাই ইসলামের বিজাতীয় ও বিজেতা প্রচারকের দল ভারত বর্ষের অমুসলমান জনসাধারণকে বিন্দুমাত্রও ঘৃণা করল না। তাই, স্থানীয় মানুষদের কাছে পীর আউলিয়ার আগমন ছিল ত্রাণকর্তা রূপে-ঈর্শ্বর কর্তৃক প্রেরিত যারা তাদের কে আর্য ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুতন্ত্রের নির্যাতন থেকে রক্ষা করেছিল। গোপাল হালদার বলেন, ‘বৌদ্ধদের প্রতি ব্রাহ্মণেরা অত্যাচার করাতে নিরঞ্জন রুষ্ট হয়ে ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে দেবতাদের নিয়োজিত করলেন; দেবতারা এলেন মুসলামনরূপে।

শুধু বৌদ্ধরা নয়-অন্যান্য সকল তথাকথিত নিন্ম জাতের হিন্দুরাও মুসলমানদের দেবতারূপেই পেয়েছিল এব্ং তাদের আশ্রয়ে ইসলামের ছায়াতলে এসে ইহ ও পর জীবন ধন্য করার সুযোগ সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে শুরু করেছিল। আর এমন এক পরিস্থিতিতেই খিলজির আগমনী সংবাদের অত্যাচারী লক্ষণ সেনের পলায়ন ছাড়া অন্য কোন গত্যন্তর আর বাকি থাকলোনা। যা হোক বখতিয়ার খিলজির বঙ্গবিজয় পরবর্তিকালে নির্বিঘ্নভাবে এবং ব্যাপকভাবে পীর- আউলিয়া ইসলাম প্রচারক ও মুয়াল্লিমগণ এখানে আগমন করে জনগণের প্রতীক্ষিত এবং কাঙ্খিত সুযোগের সদ্ধ্যবহারের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে এই অঞ্চলকে মুসলিম অধ্যুষিত এবং গুরুত্বপূর্ণ জনপদে উন্নীত করে দেয় বলে আজ বাংলাদেশে’র অধিকাংশ মানুষই মুসলামান দাবীদার। তবে বঙ্গবিজয়ের পরে আগত সূফীগণের আগমনের ধারা ইসলাম প্রচারের দ্বিতীয় পর্যায় হিসেবেই বিচেতি হয়েছে ইসলামের ইতিহাসে। যারা আরো শত শত বছর আগে থেকে প্রতিকুল পরিবেশে এই জুলুমের সমাজে শান্তির বাণী নিয়ে এসে মুসলমানদের হাতে বঙ্গবিজয়ের সুফল তুলে দিয়েছিলেন, তাদেরকে প্রথম পর্যায়ের ইসলাম প্রচারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যাঁদের আগমন ঘটে ইসলামের সেই প্রথম যুগেই। যদিওবা এই সময়ে আগত আহলে বাইত (নবী বংশ) এবং পীর-আউলিয়ার নাম ঠিকানা বা বিস্তারিত কোথাও তেমনটা সংরক্ষিত না পাওয়ায় ইতিহাসে তাদের পরিচিত খুব একটা নেই, যদিওবা তাদের আগমনের অনেক মূল্যবান নিদর্শন ও চিহ্ন আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আজো বিদ্যমান, এবং মাঝে মাঝে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের ফলে উম্মেচিত হচ্ছে।

ডঃ মুহাম্মদ এনামুল হক, পূর্ব পাকিস্তানে ইসলাম গ্রন্থের ১০ পৃষ্ঠায় বলেন, ‘রাজশাহী জেলার অন্তর্গত পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারের (প্রকৃত নাম সোমপুর বিহার) ধ্বংসস্তুপে আবিষ্কৃত একটি প্রাচীন আরবী মুদ্রা পাওয়া যায়। এই মুদ্রাটি আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ (৭৮৬-৮০৯ খ্রি.) এর শাসনামলে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে (১৭২ হিজরি) আল মুহাম্মদীয়া টাকশালে মুদ্রিত হয়েছিল।” তাছাড়া, ড: গোলাম সাকলায়েন তাঁর বাংলাদেশের সূফী সাধক গ্রন্থে বলেন, ‘সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলায় এমন একটি মসজিদ আবিষ্কৃত হয়েছে যা সপ্তম শতাব্দিতে (৬৮৯ খ্রিষ্টাব্দে) তৈরি করা হয়েছিল। তিনি দৈনিক বাংলা, ২৩ এপ্রিল বুধবার ১৯৮৬ সংখ্যার সংবাদ তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান যে, এই মসজিদটির ধ্বংসাবশেষের গম্বুজ থেকে প্রাপ্ত ইটগুলোতে নানা প্রকার ফুল, নকশা ও আরবী হরফে কলেমা তাইয়্যেবা সহ হিজরী ৬৯ সন লেখা আছে।

উক্ত দুই তথ্য প্রমাণ করে যে, এই বাংলাদেশে ইসলাম আগমনের বয়স তেরশ বছরেরও বেশি। অথচ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয় হয়েছে আটশ বছরের মতো মাত্র। অথার্ৎ আরো পাঁচশ বছর আগে থেকে এখানে পীর-আউলিয়া-দরবেশ ও নবী-বংশধরদের আগমন ঘটেছে। তাঁরা এখানে ইসলাম প্রচার ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন, এবং অনেকেই পরবর্তি সময়ে ঘর-সংসার পেতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেছেন- বিশেষত: বঙ্গবিজয়ের পরে অনুকুল পরিবেশে। হিজরি ৬৯ সনের উক্ত মসজিদ নির্মিত হবার অব্যবহিত পূর্বেই এখানে ইসলাম প্রচারে বুজুর্গ ব্যক্তিদের আগমন ঘটতে পারে। আগে ইসলামের প্রচার এরপর নবদীক্ষিত মুসলমানদের ইবাদতের জন্য মসজিদ নির্মিত হওয়াটা স্বাভাবিক। আমরা জানি, ৬১ হিজরির ১০ মুহরম কারবালায় শহীদ হন ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সহ আহলে বায়ত এবং তাঁদের সঙ্গী-সাথী ঈমানদার-মুজাহিদগণ। এজিদ এবং তার পরবর্তি উত্তরসূরি শাসকগণের হাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের বংশধরগণ এবং তাঁদের সমর্থকগণের জান-মাল নিরাপদ ছিল না বিধায় তাঁরা মদীনা মুনাওয়ারা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েন এবং সেখানে ইসলাম প্রচারে লেগে যান। এটা অসম্ভব নয় যে, ৬১ হিজরির কারবালার পরে মাতৃভূমি ত্যাগকারী উক্ত শা’নদার বুজুর্গ ব্যক্তিদের কোন কাফেলা এই অঞ্চলে এসে ইসলাম প্রচার ও মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তাছাড়া হাদীস শরীফে হিন্দুস্থান বিজয়ীদের জন্য সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে- যা কার্যকরণের তৎপরতা সাহাবাদের যুগ থেকেই শুরু হওয়া অস্বাভাবিক নয়। হযরত সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস শরীফে আছে, রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন যে, “আসাবাতানি মিন উম্মতি আখরাজাহুল্লাহু মিনান্নারি আসাবাতুন তাগযুল হিন্দ ওয়া আসাবাতুন তাকুনুমাক’আ ঈসা ইবন মারয়ামা আলায়হিস্ সালাম।”  অথার্ৎ ‘আমার উম্মতের মধ্যে দুইটি সেনাদলকে আল্লাহ্ পাক জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন, তার মধ্যে একটি হলো হিন্দ (হিন্দুস্থান) অভিযানকারী সেনাদল আর অপরটি হলো ঈসা আলায়হিস্ সালাম এর সহযোগি সেনারা।’ উক্ত ঘোষণা অনুসরণকারী সাহাবা তাবেয়ীদের কাফেলার ভারত (হিন্দ) অভিযান’র ফসলও হতে পারে এই মসজিদ। যেভাবে হোন না কেন, যে সব পরবর্তি ইসলাম প্রচারকদের কল্যাণে সেই প্রথম যুগেই আমরা ইসলাম পেয়েছি- তাদের নাম ‘আউলিয়া’। এই আউলিয়া তাবেয়ী-তবেতাবেয়ীও হতে পারেন- এমনকি সাহাবীও। ড: কাজী দীন মুহাম্মদ তাঁর ‘বাংলাদেশে ইসলামের আবির্ভাবও ক্রমবিকাশ’ এ বলেন হযরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু-এর খেলাফতকালে বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারকরা এসেছিলেন। তিনি আরো বলেন-‘আরব বণিক ও প্রচারকদের চেষ্টায় হিজরি প্রথম শতকেই (খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দি) ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকুলীয় অথার্ৎ বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় বন্দর সমূহে ইসলামী ভাবধারার আমদানী হয়।

Categories
বিভাগবিহীন

অলি আউলিয়াদের মাজারের উপর ইমারত তৈরি করা জায়েজ, তার দলিল হাদিসের উদ্বৃতিসমূহ।

শাহ সৈয়দ মীর মহিউদ্দিন সুরখ সুরতনি (রহঃ)

এখানে তিনটি বিষয় জানার আছে- এক. কবর পাকা করা; দুই. কবরকে সুন্নত পরিমাণ থেকে অর্থাৎ এক হাত থেকে বেশী উঁচু করা; তিন. কবরের আশে-পাশে ইমারত তৈরী জায়েয কিনা।

আবার কবর পাকা করার দুটি রূপ রয়েছে।

একটি হচ্ছে কবরের অভ্যন্তরীন অংশ পাকা করা, যা লাশের সাথে জড়িত থাকে, অপরটি হচ্ছে কবরের উপরাংশে পাকা করা, যা কবরের উপরে দেখা যায়।

• মাসআলা

(১) কবরের অভ্যন্তরীন অংশ পোড়া ইটদ্বারা পাকা করা এবং ওখানে লাকড়ী স্থাপন করা নিষেধ। তবে পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহার করা জায়েয আছে।কেননা লাকড়ী ও ইটের মধ্যে আগুনের প্রভাব রয়েছে। কবরের বহিরাংশ সাধারণমুসলমানদের বেলায় পাকা করা নিষেধ। কিন্তু বিশেষ বিশেষ উলামা ও মাশায়িখের জন্য জায়েয।

(২) কবরের চৌহদ্দি একহাত থেকে বেশী উঁচু করা নিষেধ। তবে যদি আশে-পাশে উঁচু করে কবরকে একহাত পরিমাণ উঁচু করা জায়েয।

(৩) কবরের আশে-পাশে বা কবরের সন্নিকটে কোন ইমারত তৈরী করা সাধারণ মুসলমানদের কবরের ক্ষেত্রে নিষেধ। কিন্তু ফকীহ ও আলিমগণের কবরের বেলায় জায়েয। এর দলীল সমূহ নিম্নে প্রদত্ত হলো।

• কোরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণ

(১) মিশকাত শরীফের কিতাবুল জানায়েযের الدفن শীর্ষক অধ্যায়ে আবু দাউদ শরীফের বরাত দিয়ে বর্ণিত আছে- হযরত উছমান ইবনে মযউন (রা:) কে যখন দাফন করা হয়, তখন হুযুর আলাইহিস সালাম তাঁর কবরের শিয়রে একটি পাথর রাখলেনএবং ইরশাদ ফরমান-

اَعْلَمْ بِهَا قَبْرَ اَخِىْ وَاُدْفِنُ اِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ اَهْلِىْ

আমরা এর দ্বারা নিজের ভাইয়ের কবর সনাক্ত করতে পারবো এবং এখানে স্বীয় আহলে বাইয়েত লাশ সমূহ দাফন করবো।

(২) বুখারী শরীফে কিতাবুল জানায়েয الجريد على القبرশীর্ষকঅধ্যায়ে অন্য হাদীছের সনদের সাথে সংযুক্ত একটি হাদীছ হযরত খারেজা (রা:) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন আমরা হযরত উছমানের যুগে জীবীত ছিলেন:

اَنَّ اَشَدَّ نَا وَثُبِةَ الَّذِىْ يَثِبُ قَبْرَ عُثْمَانَ اِبْنِ مَظْعُوْنٍ حَتّى يُجَاوِزَهُ

তখন আমাদের মধ্যে সেই বড় লম্ফদানকারী ছিলেন, যিনি উছমান ইবনে মযউনের কবরকে অতিক্রম করতে পারতেন।

মিশকাত শরীফের রেওয়ায়েত থেকে বোঝা গেল- হযরত উছমান ইবনে মযউনের কবরের মাথার দিকে পাথর ছিল এবং বুখারী শরীফের রেওয়াতে থেকে বোঝা যায় তাঁর কবরের উপরিভাগ ঐ পাথরের দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল। উভয় রেওয়ায়েতটা এভাবেএকত্রিতকরণ করা যায় যে মিশকাত শরীফে কবরের মাথার দিকে যেই পাথর স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে এর অর্থ হচ্ছে কবরের উপরই মাথার দিক থেকে এটা স্থাপন করা হয়েছে। বা ভাবার্থ এটাও হতে পারে যে কবরটা সম্পূর্ন উক্ত পাথরের ছিল, কিন্তু এ হাদীছে শুধু শিয়রের কথা উল্লেখ হয়েছে। এ দু’হাদীছ থেকে এটাপ্রমাণিত হলো যে কোন বিশেষ কবরের চিহ্ন বহাল রাখার জন্য কবরকে কিছু উঁচু করে দেয়া হয় বা পাথর ইত্যাদি দ্বারা পাকা করে দেয়া হয়, তা জায়েয আছে, যেন বুঝতে পারা যায় যে এটা কোন বুযুর্গের কবর। এর আগে আরও দুটি মাসআলা জানা গেছে। অধিকন্তু ফকীহগণ বলেন- যদি মাটি নরম হয় এবং লোহা বা কাঠের বাক্সে লাশ রেখে দাফন করতে হয়, তাহলে ভিতরের অংশের চারিদিকে মাটির সাথে মিলিয়ে দিন। (ফতওয়ায়ে শামী, আলমগীরী ও অন্যান্য কিতাবের دفن الميت অধ্যায়ে দ্রষ্টব্য) এর থেকে আরও বোঝা গেল যে কবরের নিম্ন ভাগ কাঁচা হওয়া চাই। দুটি মাসায়েলই প্রমাণিত হলো।

(৩) উলামা মাশায়িখ ও আওলিয়া কিরামের মাযারের আশ-পাশে বা এর সন্নিকটে ইমারত তৈরী করা জায়েয। কুরআনে কারীম, সাহাবায়ে কিরাম ও সাধারণ মুসলমানদের আমল ও উলামায়ে কিরামের উক্তিসমূহ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। কুরআন কারীম আসহাবে কাহাফের কাহিনী বর্ণনা প্রসংগে ইরশাদ করেন-

قَلَ الَّذِيْنَ غَلَبُوْا عَلى اَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ علَيْهِمْ مَسْجِدًا

তিনি বললেন, তাঁরা যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন (ইবাদত বন্দেগীতে) তাঁদের সেই স্মৃতির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা হবে।

তফসীরে রূহুল বয়ানে এ আয়াতের بُنْيَانًا ব্যাখ্যা প্রসংগে উল্লেখিত আছে-

لَايَعْلَمُ اَحَدٌ تُرْبَتَهُمْ وَتَكُوْنُ مَحْفُوْظَةً مِنْ تَطَرُّقِ النَّاسِ كَمَا حُفِظَتْ تُرْبَتُ رَسُوْلِ اللهِ بِالْحَظِيْرَةِ

তাঁরা প্রস্তাব দিলেন, আসহাবে কাহাফের জন্য এমন একটি প্রাচির তৈরী করুন, যা তাদের কবরকে পরিবেষ্টিত করবে এবং তাদের মাযার সমূহ জনগণের আনাগোনা থেকে হিফাজতে থাকবে, যেমন হুযুর আলাইহিস সালামের রওযা পাককে চার দেয়ালেরদ্বারা পরিবেষ্টিত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এ প্রস্তাব আগ্রাহ্য হলো, মসজিদই নির্মাণ করা হলো।

উক্ত রূহুল বয়ানে مَسْجِدًا এর তাফসীর এভাবে করা হয়েছে-

يُصَلِّىْ فِيْهِ الْمُسْلِمُوْنَ وَيَتَبَرَّ كُوْنَ بِمَكَانِهِمْ

জনগণ সেখানে নামায আদায় করবে এবং ওদের থেকে বরকত হাসিল করবে।

কুরআন কারীম সেসব লোকদের দুটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন;

এক আসহাবে কাহাফের আস্তানার পাশে গম্বুজ ও সমাধি তৈরী করার পরামর্শ;

দুই, ওদের সন্নিকটে মসজিদ তৈরী করার সিদ্ধান্ত ।

কুরআন করীম কোনটাকে অস্বীকার করেননি। যার ফলে প্রতীয়মান হলো যে, উভয় কাজটা তখনও জায়েয ছিল এবং এখনও জায়েয আছে। যেমন উসুলের কিতাবসমূহ দ্বারা প্রমাণিত আছে- شَرَائِع قَبْلِنَا يَلْزِمُنَا (আগের যুগের শরীয়ত আমাদের জন্য পালনীয়) হুযুর আলাইহিস সালামকে হযরত সিদ্দীকা (রা:) এর কুটিরে দাফন করা হয়। যদি এটা নাজায়েয হতো, তাহলে সাহাবায়ে কিরাম প্রথমে ওটা ভেংগে ফেলতেন, অত:পর দাফন করতেন, কিন্তু তা করলেন না। হযরত উমর (রা:) স্বীয় খিলাফতের যুগে এর চারিদিকে কাঁচা ইটের দেওয়াল তৈরী করে দিয়েছিলেন। অত:পর ওলিদ ইবনে আবদুল মালিকের যুগে সৈয়্যদেনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর সকল সাহাবায়ে কিরামের জীবীত থাকা অবস্থায় ঐ ইমারতটাকে খুবই মজবুত করেছেন এবং এতে পাথর স্থাপন করেছেন। যেমন সৈয়দ সমহুদী (রহ:) স্বীয় خلاصة الوفا باخبار دار المصطفے নামক কিতাবের ১০ম পরিচ্ছেদের ১৯৬ পৃষ্টায় হুযুরা সম্পর্কিত আলোচনায় লিপিবদ্ধ করেছেন-

বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েযের مَاجَاءَ فِىْ قَبْرِالنَّبِىِّ وَاَبِىْ بَكْرِ وعُمَرَ শীর্ষক অধ্যায়ে হযরত ওরওয়াহ (রা:) থেকে বর্ণিত আছে- ওলিদ ইবনে আব্দুল মালিকের যুগে রসুলুল্লাহ আলাইহিস সালামের রাওযা পাকের একটি দেওয়াল ধসে পড়ে গিয়েছিল। যখন اَخَذُوْا فِىْ بِنَائِه সাহাবায়ে কিরাম একে মেরামত করার কাজে নিয়োজিত হলেন-

فَبَدَتْ لَهُمْ قَدْم فَفَزِعُوْا وَظَنُّوْا اَنَّهَا قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ

তখন একটি পা দৃষ্টিগোচর হলো। এতে তাঁরা ঘাবড়ে গেলেন এবং মনে করলেন এটা হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র কদম মোবারক।

حَتّى قَالَ لَهُمْ عُرْوَةُ لَا وَاللهِ مَاهِىَ قَدَمُ النَّبِىِّ عَلَيْهِ السَّلَام مَاهِىَ اِلَّا قَدَمَ عُمَرَ

শেষ পর্যন্ত হযরত ওরওয়া (রা:) বললেন, খোদার কসম, এটা হুযুর আলাইহিস সালামের কদম নয়, এটা হযরত ফারুকের (রা:) কদম।

“জযবুল কুলুব ইলা দেয়ারিল মাহবুব” গ্রন্থে শেখ আব্দুল হক (র:) লিপিবদ্ধ করেছেন যে, ৫৫০ হিজরীতে জামাল উদ্দিন ইষ্ফাহানী তথাকার উলামায়ে কিরামের উপস্থিতিতে দেয়ালের চারিদিকে চন্দন কাঠের জালী তৈরী করে দিয়েছিলেন এবং ৫৫৭ হিজরীতে কয়েকজন ইসায়ী ধার্মিকের ছদ্মবেশে মদীনা শরীফেএসেছিলেন এবং সুড়ংগ খনন করে লাশ (দেহ) মুবারক বের করে নিতে চেয়েছিলেন। হুযুর আলাইহিস সালাম তৎকালীন বাদশাকে তিনবার স্বপ্ন দেখালেন। অত:পরবাদশাহতাদেরকে কতল করার নির্দেশ দিলেন এবং রওযা পাকের চারিদিকে পানির স্তর পর্যন্ত ভিত্তি খনন করে সীসা ঢেলে একে ভরাট করে দিয়েছিলেন। আবার ৬৭৮ হিজরীতে সুলতান কালাউন সালেহী সবুজ গম্বুজটা, যা এখনও মওজুদ আছে, তৈরীকরিয়েছিলেন।

উপরোক্ত ভাষ্য থেকে এটা বুঝা গেল যে, পবিত্র রওযা মুবারক সাহাবায়ে কিরাম তৈরী করিয়েছিলেন। যদি কেউ বলে, এটাতো হুযুর আলাইহিস সালামেরবিশেষত্ব, এর উত্তরে বলা যাবে, এ রওযা শরীফে হযরত সিদ্দীক (রা:) ও হযরত উমর (রা:) কেও দাফন করা হয়েছে এবং হযরত ঈসা (আ:) কেও দাফন করা হবে। সুতরাং এটা হযুর আলাইহিস সালামের বৈশিষ্ট বলা যায় না। বুখারী শরীফের প্রথম খন্ড কিতাবুল জানায়েয এবং মিশকাত শরীফের البكاء على الميت শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, যখন হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী (রা:) ইন্তিকাল করেছিলেন- ضَرَبَتْ اِمْرَ أتُه الْقُبَّةَ عَلى قَبْرِه سَنَة তখন তাঁর স্ত্রী তাঁর কবরের উপর এক বছর পর্যন্ত গম্বুজ বিশিষ্ট ঘর তৈরী করে রেখেছেলেন।

এটাও সাহাবায়ে কিরামের যুগে সবার বর্তমানে হয়েছিল। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করেন নি। অধিকন্তু তাঁর স্ত্রী ওখানে একবছর পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন, অত:পর ঘরে ফিরে আসেন। এ হাদীছ থেকে বুযুর্গানে কিরামের মাযার সমূহের কাছে খাদিমের অবস্থান করাটাও প্রমাণিত হলো। এ পর্যন্ত কুরআন হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত করা হলো।

• ফকীহ, মুহাদ্দীছ, তাফসীরকারী গণের উক্তি সমূহ

রূহুল বয়ানের তৃতীয় খন্ডে দশম পারায় اِنَّمَا يَعْمُرَ مَسَجِدَ اللهِ مَنْ اَمَنَ بِاللهِ এ আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন।

উলামা, আওলিয়া ও বুযুর্গানে কিরামের কবরের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয যদি মানুষের মনে শ্রেষ্ঠতম ধারণা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে; যাতে লোকেরা ঐ কবরবাসীকে নগণ্য মনে না করে।

মিরকাত শরহে মিশকাতের কিতাবুল জানায়েযে دفن الميت অধ্যায়ে বর্ণিত আছে-

পূর্বসূরী আলেমগণ, মাশায়িখ ও উলামায়ে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করা জায়েয বলেছেন, যাতে লোকেরা যিয়ারত করে এবং বসে আরাম পায়।

শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী শরহে সফরুস সা’আদাত কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

শেষ জামানায় সাধারণ মানুষ যখন বাহ্যিক বেশভূষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেল, তখন মাশায়িখ ও বুযুর্গানে কিরামের কবর সমূহের উপর ইমারত তৈরী করার প্রতিবিশেষ অভিপ্রায়ে জোর দেয়া হয়, যেন মুসলমান ও আওলিয়া কিরামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে হিন্দুস্থানে, যেথায় হিন্দু, কাফির ও অনেক শত্রুর অবস্থান, তথায় পুণ্যাত্মা মনীষীদের শান-মান প্রকাশ, সেসব কাফিরদের মনে ভীতি ও আনুগত্য সৃষ্টির সহায়ক। অনেক কাজ আগের যুগে মাকরূহ ছিল কিন্তু শেষ জামানায় মুস্তাহাবে রূপান্তরিত হয়েছে।

ফতওয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ড الدفن অধ্যায়ে লিখা আছে-

وَقِيْلَ لَايَكْرَهُ الْبِنَاءُ اِذَا كَانَ الْمَيِّتَ مِنَ الْمَشَائِخِ والعُلَمَاءِ وَالسَّادَاتِ

যদি কবরবাসী মাশায়িখ, উলামা বা সৈয়দ বংশ থেকে কেউ হয়ে থাকেন, তার কবরের উপর ইমারত তৈরী করা মাকরূহ নয়।

সেই এক অধ্যায়ে দুর্রুল মুখতারে উল্লেখিত আছে-

لَايَرْ فَعُ عَلَيْهِ بِنَاء وَقِيْلَ لَابَأسَ بِه وَهُوَ الْمُخْتَارُ

কবরের উপর ইমারত তৈরী করা অনুচিত। কেউ কেউ বলেছেন, এতে কোন ক্ষতি নেই। এবং এ অভিমতটাই পছন্দনীয়।

কতেক লোক বলেন যে, শামী ও দুর্রুল মুখতারে ইমারতের বৈধতার কথাটা যেহেতু শব্দ فِيْلَ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, সেহেতু এ অভিমতটা দুর্বল। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। ফিকাহ শাস্ত্রে فِيْلَ শব্দ ব্যবহারটা দুর্বলতার লক্ষণ নয়, বরং কোন কোন স্থানে একটি মাসআলার জন্য দু’টি মতামত ব্যক্ত করা হলে উভয় মতামতই فِيْلَশব্দ দ্বারা অর্থাৎ পরোক্ষভাবে প্রকাশ করা যায়। তবেহ্যাঁ, যুক্তি বিদ্যায় فِيْلَ শব্দটা দুর্বলতার নিদর্শন। কবরে আযান শীর্ষক আলোচনায় فِيْلَ শব্দের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। তাহতাবী আলা মরাকিল ফলাহ গ্রন্থে ৩৩৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে-

মিসরের লোকেরা কবর সমূহের উপর পাথর স্থাপন করে, যাতে বিলীন বা উচ্ছেদ হয়ে না যায় এবং কবরকে যেন পলেস্তারা করতে না পারে আর যেন কবরের উপর ইমারত তৈরী করতে না পারে। কেউ কেউ এগুলোকে জায়েয বলেন এবং এটাই গ্রহনযোগ্য ।

‘মীযানুল কুবরা’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডের শেষ কিতাবুল জানায়েযে ইমাম শারানী (রহ:) বলেন-

অন্যান্য ইমামগণের মতামত হচ্ছে, কবরের উপর ইমারত তৈরী করা এবং একে চুন দিয়ে আলপনা করা যাবে না। তা সত্বেও ইমাম আবু হানীফার বক্তব্য হচ্ছে এসব জায়েয। সুতরাং প্রথম উক্তিতে কঠোরতা এবং দ্বিতীয় উক্তিতে নমনীয়তা প্রকাশ পায়।

এখনতো আর কিছু বলার নেই। স্বয়ং মযহাবের ইমাম হযরত আবু হানীফার অভিমত পাওয়া গেল যে, কবরের উপর গম্বুজবিশিষ্ট ইমারত ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয।

আল্লাহর শুকর, কুরআন হাদীছ ও ফিকাহের বিভিন্ন ইবারত এমনকি স্বয়ং ইমাম আবু হানীফার উক্তি থেকে প্রমানিত হলো যে, আওলিয়া ও উলামায়ে কিরামেরকবরের উপর গম্বুজ ইত্যাদি তৈরী করা জায়েয।

• সুবিবেচকের কাছে গ্রহণযোগ্য

*প্রথমত

এটা লক্ষ্য করা গেছে যে, সাধারণ কাঁচা কবরের প্রতি জনগণের মনে তেমন কোন আদব বা সম্মানবোধক থাকে না, তাতে না ফাতিহা পাঠ করা হয়, না শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয় বরং জনগণ একে পদদলিত করে। কিন্তু যদি পাকা কবর সামনে পড়ে এবং এর উপর গিলাফ ইত্যাদি চড়ানো দেখে, মনে করে যে এটা কোন বুযুর্গের মাযার হবে। তখন সসম্মানে একে অতিক্রম করে এবং আপনা থেকে মুখে ফাতিহা পাঠ এসে যায়। মিশকাতশরীফের الدفن অধ্যায়ে এবং মিরকাতে উল্লেখিত আছে জীবীত কালে এবং ইন্তিকালের পর একই রকম সম্মান করা উচিৎ। অনুরূপ ফতওয়ায়ে আলমগীরীর কিতাবুল কারাহিয়াত এবং আশআতুল লুমআত গ্রন্থে الدفن অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, মা-বাপের কবরকে চুমা দেয়া জায়েয। ফকীহগণ আরও বলেন যে, কবর থেকে এতটুকু দূরত্বে বসবেন, যে পরিমাণ দূরত্বে কবরস্থ ব্যক্তির সামনে জীবীত অবস্থায় বসতেন। এর থেকে বোঝা গেল ইন্তিকাল হওয়া ব্যক্তি তার জীবীত থাকাকালিন সম্মানের সমঅধিকার। ইহজগতে আল্লাহর অলীগণ বাধ্যতামূলক সম্মানের অধিকারী ছিলেন। সুতরাং ইন্তিকালের পরও তাঁরা সম্মানের অধিকারী। কবরের উপর ইমারত তৈরী করা হচ্ছে সেই সম্মান প্রকাশের মাধ্যম বিশেষ। তাই তাকে কমপক্ষেমুস্তাহাব ধরে নেয়া যায়।

*দ্বিতীয়ত

সমস্ত ইমারত সমূহের মধ্যে সরকারী ভবন বা মসজিদসমূহ হচ্ছে বিশেষ খ্যাত। যাতে লোকেরা অনায়াসে সেগুলোকে খুঁজে বের করে উপকৃত হতে পারে। উলামায়ে কিরামের বেশভুষা ও পোষাক-পরিচ্ছদ জ্ঞানী সুলভ হওয়া চাই। যেন লোকেরাতাদেরকে সনাক্ত করে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে পারে। অনুরূপ মাশায়িখ ও উলামায়ে কিরামের কবর সমূহ অন্যান্যদের কবর থেকে উন্নততর হওয়া চাই, যেন লোকেরা সনাক্ত করে ফয়েজ হাসিল করতে পারেন।

*তৃতীয়ত

আল্লাহর ওলীগণের মাযার আল্লাহর নিদর্শন স্বরূপ, যেমন আমি ইতিপুর্বে তফসীরে রূহুল বায়ানের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছি যে, আল্লাহর নিদর্শন সমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন প্রয়োজন, যা কুরআন দ্বারা প্রমানিত। সুতরাং কবরসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন উচিৎ । সম্মান প্রদর্শন স্থান ও কাল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। যে কোন প্রকারের সম্মান প্রদর্শন, যদি তাইসলাম বিরোধী না হয়, জায়েয। হুযুর আলাইহিস সালামের পবিত্র যুগে হাড় ও চামড়ার উপর কুরআন লিখা হতো, মসজিদে নববী ছিল কাঁচা এবং এর ছাউনি ছিল খেজুর পাতার, যেখানে বৃষ্টির সময় পানি টপকিয়ে পড়তো। কিন্তু পরবর্তী যুগে মসজিদে নববীকে খুবই শানদার করে এবং রওযা পাককে একান্ত যত্ন সহকারে তৈরী করা হয়েছে, কুরআন শরীফকে উন্নতমানের কাগজ দ্বারা ছাপানো হয়েছে।

দুর্রুল মুখতারে কিতাবুল কারাহিয়ায় البيع শীর্ষক পরিচ্ছেদে উল্লেখ আছে-

وَجَازَ تَحْلِيَة الْمُصْحَفِ لِمَا فِيْهِ مِنْ تَعْظِيْمِه كَمَافِى نَقْشِ الْمَسْجِدِ

এ প্রসংগে শাশীতে اى بالذهب والفضة দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন কারীমকে সোনা-চান্দি দ্বারা অলংকৃত করা জায়েয। কেননা এতে এর প্রতি সম্মান প্রকাশ পায়, যেমন মসজিদে কারুকার্য করা হয়।

সাহাবায়ে কিরামের যুগে নির্দেশ ছিল কুরআনকে আয়াত, রুকু এবং ইরাব (যের যবর, পেশ ইত্যাদি) থেকে মুক্ত রাখুন। কিন্তু পরবর্তী যুগে যখন প্রয়োজনদেখা দিয়েছে, তখন এসব কাজ বৈধ বরং আবশ্যক হয়ে গেছে। সেই একই জায়গায় আরও বর্ণিত আছে-

وَمَارَوِى عَنْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ جرِّدُوْ الْقُرْ انَ كَانَ فِىْ زَمَنِهِمْ وَكَمْ مِنْشَيْئ يختَلِفُ بِاِخْتِلَافِ الزَّمَانِ وَالْمَكَانِ

ইবনে মসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত আছে কুরআনকে ইরাব ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখুন। এ আদেশটা তৎকালীন যুগের জন্য প্রযোজ্য ছিল কিন্তু অনেক বিষয় কাল ওস্থানের পরিবর্তনের ফলে পাল্টে যায়।

একই জায়গায় শামীতে আরও উল্লেখিত আছে কুরআনকে ছোট করে ছাপাবেন না অর্থাৎ ছোট আকারের করবেন না বরং এর কলম মোটা, হরফ বড় এবং আয়াত চিহ্ন স্পষ্ট হওয়া চাই। এসব নির্দেশ কেন? একমাত্র কুরআনের মর্যাদার জন্যই এসব নির্দেশাবলী। অনুরূপ প্রথম যুগে কুরআন তিলাওয়াত, আযান ও ইমামতির জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া হারাম ছিল, যা হাদীছ ও ফিকাহ গ্রন্থে বিদ্যমান আছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রয়োজন বোধে জায়েয করা হয়েছে। হুযুর আলাইহিস সালামের যুগে জীবিতদের জন্য ঘর তৈরী নিষেধ ছিল। জনৈক সাহাবী একটি পাকা ঘর তৈরী করেছিলেন। এতে হুযুর আলাইহিস সালাম নাখোশ হয়েছিলেন এমনকি তাঁর সালমের জওয়াবও দেননি। ওই ঘরটি ভেংগে ফেলার পরই সালামের জবাব দিয়েছেন। [1]একই পরিচ্ছেদে অন্যত্র বর্ণিত আছে যে, হুযুর আলাইহিস সালাম ইরশাদ ফরমান-

اِذَالَمْ يَبَارَكْ لِلْعَبْدِ فِىْ مَالِه جعَلَهُ فِى الْمَاءِوَ الطِّيْنِ

সম্পদে না বরকত হয়, যদি তা ইটের কাজে ব্যয় করে।

কিন্তু এসব নির্দেশ থাকা সত্বেও মুসলমানগণ পরবর্তী যুগে পাকা ঘর তৈরী করেছেন এবং মসজিদও পাকা করেছেন। আশ্চর্যের বিষয়! যারা আল্লাহর ওলীদের কবর সমূহ পাকা করা বা ওগুলোর উপর গম্বুজবিশিষ্ট ঘর তৈরী করাকে হারাম বলে, তারা নিজেদের ঘর সমূহকে কেন আলিশান পাকা করে?

اَتُوْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنِ بِبَعْضٍ

তারা কি কতেক হাদীছকে বিশ্বাস করে আর কতেক হাদীছকে অস্বীকার করে?

আল্লাহ তাদেরকে বোধ শক্তি দান করুন।

*চতুর্থত

আল্লাহর ওলীগণের কবর সমূহ পাকা হওয়া এবং সেগুলোর উপর ইমারত স্থাপিত হওয়া ইসলাম প্রচারের সহায়ক। আজমীর শরীফ ও অন্যান্য মাযারে দেখা গেছে যে, তথায় মুসলমানদের থেকে বেশী ও কাফিরগণ যাতায়াত করে। আমি এমন অনেক হিন্দু ওরাফেজীকে দেখেছি, যারা খাজা সাহেবের দরবারের শান-শওকত দেখে মুসলমান হয়েছেন।

বর্তমান হিন্দুস্থানে কাফিরগণ মুসলমানদের ওই ওয়াকফকৃত জায়গাগুলো দখল করে নিচ্ছে, যেগুলোতে কোন নিদর্শন নেই । এভাবে অনেক মসজিদ, খানকা কবরস্থান নিদর্শন বিহীন হওয়ার কারণে ওদের দখলে চলে গেছ। কবরস্থানের সমস্তকবর কাঁচা হলে, এগুলো কিছু দিন পর ভেঙ্গে চুরে সমান হয়ে যায়, এসুযোগে কাফিরগণ দখল করে নেয়। সুতরাং এখন প্রত্যেক কবরস্থানের কিছু কিছু কবর পাকা হওয়া একান্ত প্রয়োজন, যাতে কবরস্থানের চিহ্ন এবং এর সীমানা জানা থাকে।

আমি নিজ গ্রামে স্বয়ং দেখেছি যে, দুটি কবস্থান ভরাট হয়ে গিয়েছিল। একটিতে শুধু দু’ তিনটি কবর ছাড়া বাকী সবই কাঁচা কবর ছিল, অপরটির কিছু অংশে পাকা কবর ছিল, গরীব মুসলমানেরা গোপনে এ কবরস্থান দুটি বিক্রি করে দিয়েছিল, যার জন্য মুকাদ্দমা হয়েছিল প্রথম কবরস্থানটির পাকা কবরগুলো বাদ দিয়ে বাখী অংশ মুসলমানদের হাত ছাড়া হয়ে গিয়েছিল। কেননা ওটাকে হাকিম নাল জমিন হিসেবে সাব্যস্ত করেছিলে। দ্বিতীয় কবরস্থানের অর্ধেকাংশ অর্থাৎ যে পর্যন্ত পাকা কবর ছিল, মুসলমানেরা পেয়েছিল, বাকী অংশের যেথায় কাঁচাকবর ছিল এবং সমতল হয়ে গিয়েছিল, কাফিরদের হাতে চলে যায়। কেননা সেই কবরস্থানের সীমানা পাকা কবরের চিহ্ন দ্বারা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বাকীঅংশের বিক্রয় সঠিক রায় দেয়া হয়েছিল। এর থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে হিন্দুস্থানে কিছু কবর পাকা করা বিশেষ দরকার। কেননা, এটা ওয়াকফ বলবৎ রাখার মাধ্যম বিশেষ, যেমন মসজিদের জন্য মিনার।

১৯৬০ সালের জুলাই মাসে সংবাদপত্র সমূহে এ খবরটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল যে, মৌলভী ইসমাঈল সাহেবের পীর সৈয়দ আহমদ সাহেব বেরলভীর কবর, যা বালাকোটে অবহেলীত অবস্থায় আছে, মেরামত করা হবে এবং এর উপর গম্বুজ হতে যাচ্ছে। ১৯৬০ সালে জুলাই মাসের ২৯ তারিখ পকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান কায়েদে আযমের কবরের উপর ইমারত তৈরীর ভিত্তি প্রস্তরস্থাপন করেন। এ ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রায় এক লাখ মুসলমান অংশ গ্রহণ করেছিল এবং এ ইমারতের জন্য পঁচাত্তর লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে দেওবন্দীদের নেতা মৌলভী ইহতেশামুল হক থানবীও বক্তব্য রেখেছিলেন। তার বক্তব্য রাওয়াল পিন্ডির দৈনিক জংগ পত্রিকায় ১৯৬০ সালের ১২ ই আগষ্ট প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেছিলেন- অশেষ ধন্যবাদ, আজ বিপ্লবের নায়ক পাকিস্তানের জনকের কবরের উপর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন। পাকিস্তানের বিগত সরকারগুলো এ পবিত্র কাজে অনেক অবহেলা করেছেন। মুসলমানগণ, এরাই সেই দেওবন্দী, যারা এখনও মুসলমানদের কবর সমূহ ভেংগে ফেলার পক্ষপাতি এবং যারা নযদী সরকারকে সাহাবায়ে কিরামের কবর সমূহ ভেংগে ফেলার কারণে তার যোগে মুবারকবাদ জানিয়েছিল। অথচ আজ তারা কায়েদে আজমের কবরের উপর গম্বুজ ইত্যাদি তৈরী করায় আনন্দ অভিনন্দন জানাচ্ছে। তাদের কিতাবী মাযহাব এক ধরণের আর মৌখিক আমলী মাযহাব অন্য ধরণের। তাদের কথা হলো যেদিকে বাতাস সেদিকে চলো। যা হোক দেওবন্দীরাও মাযারের উপর গম্বুজ তৈরী করার সমর্থক হলো।

(সংগৃহীত)

Categories
বিভাগবিহীন

অলি আউলিয়া কারা, হাদিস অনুযায়ী বর্ণনা ।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা) ও ইবনে আব্বাস সহ অনেক সাহাবায় কেরাম বলেছেন- “আউলিয়া আল্লাহিল্লাযিনা ইজা রুয়ুযা জুকেরাল্লাহ।”অর্থঃ ” তারাই অলী আল্লাহ যাদের কে দেখলে খোদার কথা স্মরণ হয়।”• ভারতের জমীনে সুলতালুন হিন্দ খাজা মাইনুদ্দীন চিশতী (রাঃ) এসে দ্বীন প্রচার করেন তিনি ৯২ লক্ষ্য মানুষকে মুসলমান করেেছে। এখনও খাজা বাবার (রা:) পবিত্র রওজা মোবারকে অনেক বিধর্মী মুসলমান হচ্ছে।* আউলিয়া কেরাম (মুমিন বান্দাগন) সম্পর্কে আল-কোরান থেকে দেখুনঃ• “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ্ পাককে ভয় কর এবং তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় বা ওসিলা তালাশ কর। (সুরা ৫ মায়েদা: ৩৫)(বহু সহিহ হাদিসে আসছে যে সাহাবীগন রাসুলুল্লাহ (সা) এর উসিলা দিতেন বা ওনারা একে অন্যের উসিলা দিতেন এখন আমরা নবী-রাসুল, সাহাবী, ইমাম, ওলী-আউলিয়ার উসিলা দেই)• এ আয়াতে কারীমায় সুষ্পষ্টভাবে আল্লাহর হেদায়াতপ্রাপ্ত বুযুর্গদের সাহচর্যে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে:-اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْঅনুবাদ- আমাদের সরল সঠিক পথ [সীরাতে মুস্তাকিম] দেখাও। তোমার নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের পথ। (সূরা ফাতিহা- ৬, ৭)• আর তার নিয়ামত প্রাপ্ত বান্দা হলেন –الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَঅনুবাদ-যাদের উপর আল্লাহ তাআলা নিয়ামত দিয়েছেন, তারা হল নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ, ও নেককার বান্দাগণ। (সূরা নিসা-৬৯)• নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাকের রহমত (মুহসিনিন) আউলিয়া কিরামগনের নিকটবর্তী । (সুরা ৭ আরাফ: ৫৬)• হে মুমিনগণ! তোমরা অনুস্মরণ কর, আল্লাহ্ পাক এর, তাঁর রাসুল পাক (সাঃ) এর এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর (ন্যায় বিচারক) রয়েছে তাদের। (সুরা ৪ নিসা: ৫৯)• আল্লাহ পাক বলেন, “তোমরা সব আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও”। (সূরা ইমরান-৭৯)• পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা আরো বলেন,إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ” নিশ্চয়ই তোমাদের ওলি (বন্ধু) হলেন আল্লাহ এবং তাঁর রসুল আর ঈমানদার লোকেরা- যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দিয়ে দেয়, এবং আল্লাহর প্রতি অনুগত বাধ্যগত থাকে।وَمَن يَتَوَلَّ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ فَإِنَّ حِزْبَ اللّهِ هُمُ الْغَالِبُونَআর যারা ওলি (বন্ধু) মানে আল্লাহকে এবং আল্লাহর রসুলকে আর ঈমানদার লোকদেরকে, তারাই আল্লাহর দল এবং আল্লাহর দলই থাকবে বিজয়ী ” ( সূরা আল মায়িদা, আয়াত-৫৫-৫৬)• আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,أَلا إِنَّ أَوْلِيَاء اللّهِ لاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَমনে রেখো যারা আল্লাহর (ওলি) বন্ধু, তাদের না কোন ভয় ভীতি আছে, না তারা চিন্তান্বিত হবে।الَّذِينَ آمَنُواْ وَكَانُواْ يَتَّقُونَযারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে।لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ لاَ تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللّهِ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُতাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা। (সুরা ইউনুছ আয়াত :৬২-৬৪)• নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মুহসিনদের ভালবাসেন।’’ (সূরা আল-বাকারা:১৯৫)• আল্লাহ বলেন,إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাওবাকারী ও পবিত্রতা অবলম্বনকারীদেরকে ভালবাসেন ।’’ (সূরা আল-বাকারা:২২২)• তাকওয়া সকল কল্যাণের মূল। তাই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে খুবই ভালবাসেন। তিনি বলেন,فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِين‘‘আর নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন।’’ (সূরা আল ইমরান:৭৬)• আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে আরো বলেন,وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِينَ”ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মুত্তাকীন “অর্থ – আর আল্লাহ্ মুত্তাকীদের (পরহেজগারদের) বন্ধু। (সূরা জাসিয়া ৪৫:১৯)• আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন , ” তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী।” ( সূরা হুজুরাত ৪৯: ১৩ )• যারা (প্রকৃত ভাবে) ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। (সূরা বাকারা ২৫৭)• আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন-وَاللّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ”ওয়াল্লাহু ওয়ালীউল মু’মিনীন”অর্থ – আর আল্লাহ মুমিনদের বন্ধু (অভিভাবক)।
( সূরা আলে ইমরান ৩ : ৬৮ )• ”সকল মুমিনই দয়াময় আল্লাহ অলি।”
( ইমাম তাহাবী ”আল আকীদা” গ্রন্থ)• আল্লাহ কোরআনে পরমান,শয়তান আল্লাহকে বলতেছে, “সকল মানুষকে আমি পথভ্রষ্ঠ করিব,কিন্তু আপনার সে বান্দাদের ব্যতীত যারা তার মধ্যে বিশিষ্ট। (সূরা হিজর -40)• আল্লাহ পাক এবার নিজেই বলছেন, “বাস্তবিক আমার সে বান্দাদের উপর তোমার কতৃর্ত চলবে না। (সূরা হিজর – 43)

Design a site like this with WordPress.com
Get started